ব্র্যাক ব্যাংক রিডিং ক্যাফে: দুই বইয়ের আলোচনায় প্রেম, দ্বন্দ্ব ও সমাজবাস্তবতার ব্যবচ্ছেদ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬: বাংলা সাহিত্যের দুটি স্বতন্ত্র ও পাঠকনন্দিত বই নিয়ে সম্প্রতি সাহিত্য আলোচনার আয়োজন করেছেন ব্র্যাক ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার রিডিং ক্যাফের সদস্যরা। পাঠচক্রের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘সোনালী দুঃখ’ এবং মঈনুল আহসান সাবেরের সংকলন ‘সেরা দশ গল্প’।
দেশের ব্যাংকিং খাতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ হিসেবে ঢাকায় হেড অফিস আনিক টাওয়ার ও সেপাল টাওয়ার এবং চুয়াডাঙ্গায় রিডিং ক্যাফে পরিচালনা করছে ব্র্যাক ব্যাংক। সহকর্মীদের মধ্যে বইপড়া ও মননশীল চর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই পাঠচক্রগুলো কেবল নন্দিত সাহিত্যকর্ম পাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজ, ইতিহাস, মানবসম্পর্ক ও সমকালীন বাস্তবতা নিয়ে মুক্ত আলোচনার এক চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিডিং ক্যাফের এবারের আয়োজনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সোনালী দুঃখ’ উপন্যাসটি নিয়ে মুখর ছিলেন পাঠকেরা। ত্রিস্তান ও রাজকন্যা সোনালীর কিংবদন্তিতুল্য প্রেমকাহিনীর এই মর্মস্পর্শী গল্পে উঠে এসেছে রাজকীয় দায়িত্ব, সংঘাত ও রাজদরবারের ষড়যন্ত্রের টানাপোড়েন। কেন্দ্রীয় চরিত্র দুটির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও কর্তব্যের চিরন্তন দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের মূল সুর। প্রেম যে কেবল নিছক রোমান্স নয়; বরং পরিস্থিতি ও নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের টিকে থাকার এক গভীর সংগ্রাম— রিডিং ক্যাফের সদস্যদের আলোচনায় সেটিই উঠে এসেছে।
অন্যদিকে কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবেরের ‘সেরা দশ গল্প’ সংকলনটি পাঠকদের নিয়ে গেছে ভিন্ন এক মনস্তাত্ত্বিক জগতে। কোনো নির্দিষ্ট থিমের বৃত্তে বন্দি না থেকে এই সংকলনের গল্পগুলো পাঠককে মুখোমুখি করে বিচিত্র মানবিক অভিজ্ঞতার। জীবন, সম্পর্ক ও সমাজের ভেতরের জটিলতাগুলো লেখকের লেখনীতে তীক্ষ্ণ ও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। লেখকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সংকলিত ভিন্ন স্বাদের এই গল্পগুলো পাঠকদের সমকালীন সমাজবাস্তবতা নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।
উভয় বইয়ের তুলনামূলক আলোচনায় রিডিং ক্যাফের সদস্যরা ভিন্ন দুটি সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন। ‘সোনালী দুঃখ’ যেখানে প্রেম ও কর্তব্যের চিরন্তন ও চিরায়ত প্রশ্নগুলো সামনে আনে, সেখানে ‘সেরা দশ গল্প’ আলো ফেলে মানুষের দৈনন্দিন ও নাগরিক জীবনের জটিল মনস্তত্ত্বে। চরিত্র নির্মাণ, আখ্যানশৈলী এবং সাহিত্যে সময়ের প্রতিফলনের মতো বিষয়গুলো উঠে আসে সদস্যদের প্রাণবন্ত আলোচনায়।
উল্লেখ্য, সহকর্মীদের মাঝে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে ব্র্যাক ব্যাংকের এই অনন্য উদ্যোগ। ধ্রুপদি ও সমকালীন কথাসাহিত্যের নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানজুড়ে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও সবসময় শেখার এক সুন্দর সংস্কৃতি তৈরি করছে ব্র্যাক ব্যাংক রিডিং ক্যাফে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186391