রোনালদোর অহঙ্কার তার গৌরবময় ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে
স্পোর্টস ডেস্ক : কোচ জর্জ জেসুসের সাথে উত্তেজনার জেরে পর্তুগাল জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ক্রিস্টোফ দুগার্দ। তার মতে, রোনালদোর অতিরিক্ত অহংকার ও মাঠের বাইরের আচরণ এই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের গড়া গৌরবময় ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ফরাসি রেডিও শো ‘রথেন সেনফ্লাম’-এ আলাপকালে রোনালদোর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুগার্দ বলেন, ‘বিষয়টি এখন আর সহ্য হয় না। আপনার দেশ এবং সংস্কৃতির প্রতি এত কম শ্রদ্ধা থাকাটা সত্যিই ভয়াবহ। এটি খুবই মর্মান্তিক, কারণ অতীতে তার এমন ভাবমূর্তি ছিল না। সে এমন একজন মানুষ ছিল, যে সুস্থ মস্তিষ্কের, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, মহান এবং উদার।’
দুগার্দ মনে করেন, রোনালদোর বোঝা উচিত তার পারফরম্যান্সের গ্রাফ এখন নিম্নগামী। তবে আত্মোপলব্ধির বদলে রোনালদো ইগো সমস্যায় ভূগছেন বলে মনে করেন তিনি, ‘আমার মনে হচ্ছে, রোনালদো এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে তার অহংকার যেন তাকে গ্রাস করছে। যে মুহূর্তে তার অত্যন্ত সম্মানের সাথে বিদায় নেওয়ার কথা ছিল, সেই মুহূর্তে সে সবকিছু এলোমেলে কর দিল! এখন সে কীভাবে ফিরবে জাতীয় দলে? আর কি ফিরতে পারবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল দল যে তাদের এই তারকাকে ছাড়াও বেশ ছান্দসিক ও কার্যকর ফুটবল খেলছে, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন দুগার্দ। কোচ জর্জ জেসুসের শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা বদল ও রোনালদোর ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে দুগার্দ বলেন, ‘কোচ আপনাকে শেষ আধা ঘণ্টা খেলাবেন বলার পর পরিকল্পনা বদল করেছেন—শুধুমাত্র এই কারণে একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পুরো দলের প্রতি দায়বদ্ধতা এমনভাবে ধূলিসাৎ করা উচিত নয়। পর্তুগালের যুব সমাজের কাছে সে ঠিক কী বার্তা পাঠাচ্ছে?’
উল্লেখ্য, উয়েফা নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে সুযোগ না পাওয়া এবং কোচ জর্জ জেসুস পরবর্তী ম্যাচেও তাকে শুরুর একাদশে না রাখার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই পর্তুগালের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। যদিও কোচ জেসুস পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে রোনালদোর জন্য জাতীয় দলের দরজা এখনও খোলা রয়েছে। তবে দুগারের মতো ফুটবল বিশ্লেষকদের তীব্র সমালোচনার মুখে রোনালদোর এই বিদায়লগ্ন এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186327