আজ বিশ্ব বসতি দিবস
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : আজ সোমবার বিশ্বজুড়ে পালিত হবে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালন করা হয়। চলতি বছরে দিবসটির মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে 'সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ'।
পরিবেশ রক্ষা করে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে এবার দিবসটি উদ্যাপিত হবে। গতকাল রোববার সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাসস্থানের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথমবারের মতো এই দিবস পালন করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর নতুন বিষয় নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এবারের বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ৮ অক্টোবর ওমানের রাজধানী মাসকাটে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো মাসজুড়ে নগর কেন্দ্রিক কর্মসূচির সূচনা হবে। একই সময়ে হতে যাওয়া আবাসন মেলার সঙ্গেও এই আয়োজন যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশেও প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়। এবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলার উদ্বোধন করবেন।
এর অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর জিয়া উদ্যানের সামনে থেকে একটি পদযাত্রা শুরু হয়ে বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়েছে।
বিশ্ব বসতি দিবস নগরায়ণের নানা দিক, চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলে। একই সঙ্গে সুন্দর বসবাসের পরিবেশ ও ভালো জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর বলেছেন, সকলের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। আজ 'বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬' উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় 'বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬' পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, নগরগুলো শুধু নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন মানুষের বসবাসের স্থান নয়। বিশ্বজুড়েই নগরগুলো কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাই পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,
পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আজ 'বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬' উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। 'সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন' প্রত্যয় সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য 'সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন' অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক,বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এক্সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186171