শিশিরভেজা ভোরে শীতের আগমনী বার্তা সূর্যোদয়ের সঙ্গে দিন শুরু কৃষকের
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিট। পূর্ব আকাশে লাল-কমলা আভা ছড়িয়ে উদিত হচ্ছে নতুন দিনের সূর্য। চারপাশে হালকা কুয়াশার চাদর, দূরের গাছগুলো যেন ধোঁয়ায় আঁকা ছবি। প্রকৃতি নিরবে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের শশীনগর গ্রামে আজ রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে দেখা গেছে এমনই এক নয়নাভিরাম দৃশ্য।
শিশিরভেজা সবুজ ঘাসে খালি পায়ে মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন এক কৃষক। কাঁধে বাঁক, দুই প্রান্তে ঝুলছে কাজের সরঞ্জাম। দুই পাশে যতদূর চোখ যায়, সবুজ ধানের ঢেউ। শীতের এই আগমনী বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে নতুন উদ্যমে দিন শুরু করছেন গ্রামের কৃষকেরা।
শশীনগর গ্রামের কৃষক হাছেন আলীর বলেন, ভোরে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে, মাঠে কাজ করতে এখন ভালো লাগে। কিন্তু বেলা বাড়লেই রোদের তাপে কষ্ট হয়।
তাই ভোর সকালেই অধিকাংশ কাজ সেরে ফেলি। নন্দীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম বলেন, ভোরের শীতল আমেজ আর দিনের প্রখর রোদ, এই দুইয়ের মিলনে ঋতু বদলের স্পষ্ট ছোঁয়া এখন গ্রামবাংলার প্রতিটি প্রান্তরে।
তবে কুয়াশা ভেজা সকালে কৃষকের এই নীরব পথচলাই মনে করিয়ে দেয়, শীত আসুক বা গ্রীষ্ম, মাঠের মানুষের জীবনসংগ্রাম থেমে থাকে না। রাতের হিমেল বাতাস আর সকালের স্নিগ্ধ কুয়াশায় নন্দীগ্রামে প্রকৃতি যেন নীরবে বলে উঠছে শীত আসছে, ধীরে ধীরে, কুয়াশার চাদর আর শিশিরের মুক্তোদানা সঙ্গে নিয়ে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, সকাল ও দুপুরের তাপমাত্রার ব্যবধানের কারণে সর্দি, জ্বর ও কাশির প্রকোপ বাড়তে পারে। শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। দিনের বেলায় প্রচন্ড গরম থাকলে তরল খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, মাঠে আমন ধানের অবস্থা ভালো। হালকা কুয়াশা ও শিশির ফসলের জন্য ক্ষতিকর নয়। দিনের বেলায় প্রচন্ড গরম আর রাতের বেলায় কুয়াশা সে ক্ষেত্রে কিছু রোগবালাই বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়াজনিত, ধানের ব্লাস্ট, মাজরা পোকা আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এসব রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের টিম নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে শীতকালীন সবজি ও রবিশস্য চাষের প্রস্তুতিও চলছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186138