ফের উত্তপ্ত নয়াদিল্লি, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলা

ফের উত্তপ্ত নয়াদিল্লি, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল নয়াদিল্লি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে অনিয়মসহ কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনে শনিবারও (০৩ অক্টোবর) রাজপথে নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় বলে জানা গেছে।

 

শনিবারের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয় সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন আইসা। শুক্রবারের বিক্ষোভের পর সংগঠনের নেত্রী নেহা বোরা আন্দোলনকারীদের আবার যন্তর মন্তরে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার দুপুর ১টা থেকে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আইসার নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া ঠেকাতে সকাল থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়। নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে পুলিশ। প্রশাসন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে কোনো মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই।

তবু পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে এগোতে থাকেন। তাদের সঙ্গে আইনজীবী কপিল সিব্বল ও প্রশান্ত ভূষণসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও ছিলেন বলে জানা গেছে। মাঝপথে পৌঁছতেই পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

শুক্রবারও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। আম আদমি পার্টির পাশাপাশি কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও বচসার ঘটনাও ঘটে। এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। আটকদের মধ্যে ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতারা। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ককরোচ জনতার কর্মীরা দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন। পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করলে যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে বলেও তিনি জানান। ফলে আগামী কয়েক দিনেও রাজধানীতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নাগরিক বিক্ষোভ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186008