বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আটক অর্ধ সহস্র

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আটক অর্ধ সহস্র

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশি, আম আদমি পার্টির (এএপি) দিল্লি শাখার প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে কংগ্রেসের কর্মী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও ছিলেন।

আটক ব্যক্তিদের বদরপুর, আউটার নর্থ দিল্লিসহ বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়। পরে দুপুরের দিকে জনপথ এলাকায় কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যেতে বাধা দেয় পুলিশ।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগেই শুক্রবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার জানায়, এই কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।

বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা জানান। গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবর হওয়ায় দিনটিকে কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংশোধনের সময় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগে পুরো প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র উঠে আসে না। বরং বিষয়টির একটি অংশকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সিইসি জ্ঞানেশ কুমার নিজে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন নিজেদের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগ করেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিধি শর্মা বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

৩৮ বছর বয়সী মিনা গিরির দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে বসবাস করছেন এবং আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট দিয়েছেন। তবে এবার ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ১৮ বছর বয়সী ইমরান। তিনি জানান, তার পরিবারের কয়েকজনের নামও তালিকায় নেই। এর কারণে বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র ও সুবিধা পেতে সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সম্ভাব্য বড় জমায়েত ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া বিক্ষোভ ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185868