ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলাচেষ্টায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত রয়েছে : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলাচেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। পশ্চিম ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করে।
বুধবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেছেন, ‘সপ্তাহান্তে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরান জড়িত থাকার জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এটি এখনো চলমান, জটিল ও গুরুতর পুলিশি তদন্ত।’ তিনি বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাজ্য ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ব্রিটিশ সরকার।
তবে ইরান এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। লন্ডনে ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে ইরানের সম্পৃক্ততার খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ জল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ‘ভুল জায়গায় খুঁজছে’।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, কথিত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় ‘বিদেশি কোনো পক্ষের হাত’ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে তখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বিস্তারিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বুধবার বলেছেন, ইসরায়েল ব্রিটেনকে আগেই গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল যে ফেয়ারফোর্ডে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় হতে পারে। তবে কী ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানাননি।
রবিবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগও আনা হয়। তবে সোমবার তাদের কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়। তিনটি সাদা ভ্যান পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে ভ্যানগুলো থেকে কিছু পরিমাণ পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। সূত্র : বিবিসি
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185749