সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্বস্তির জয় ইংল্যান্ডের
স্পোর্টস ডেস্ক : অ্যান্থনি গর্ডন ও হ্যারি কেইনের গোলে চেকিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার প্রাগে নেশনস লিগের ম্যাচে স্বাগতিকরা প্রথমার্ধের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হলে জয়টা আরও সহজ হয়ে যায় থমাস টুখেলের দলের।
ম্যাচের আগে ইংলিশ ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রিমিয়ার লিগের রায়। এমন নাটকীয় দিনের শেষটা অবশ্য জয় দিয়েই করেছে ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল চেকিয়া। ইংল্যান্ডের রক্ষণেও কিছুটা অগোছালো ভাব দেখা যায়। ম্যাচের শুরুতেই নিকো ও'রেইলি না থাকায় চেকিয়ার পাভেল শুলৎস সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। পরে লুকাশ চেরভের ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
১৬ মিনিটে প্রথম গোলের কাছাকাছি যায় ইংল্যান্ড। মর্গান রজার্স দারুণ দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে শট নিলে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে অ্যান্ডারসন ও বুকায়ো সাকার প্রচেষ্টাও আটকে যায়। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ২৫ মিনিটের দিকে। অ্যান্ডারসনের ওপর পাভেল শুলৎসের বাজে চ্যালেঞ্জের পর ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি উমুত মেলার। শুরুতে হলুদ কার্ড দেখালেও পরে সেটি লাল কার্ডে পরিবর্তন করেন তিনি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় চেকিয়া। একজন কমে যাওয়ার পর স্বাগতিকরা গভীর রক্ষণে চলে যায়। সাকা, রজার্স ও গর্ডন একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন। যোগ করা সময়ে হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত শটও অসাধারণভাবে ঠেকান চেকিয়া গোলরক্ষক মাতেই কোভার।
তবে বিরতির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি স্বাগতিকদের প্রতিরোধ। ৪৭ মিনিটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। চেকিয়ার একটি ভুল পাস কেটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। এরপর তার দুর্দান্ত ক্রস নিচু হেডে গোলমুখে পাঠান গর্ডন। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করার একাধিক সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। লেফটব্যাক লুইস হলের সঙ্গে গর্ডনের বোঝাপড়া বেশ কার্যকর ছিল। হলের বিপজ্জনক ক্রস নিজেদের পোস্টে ঠেলে দেন লাদিস্লাভ ক্রেইচি। ৬৯ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। রজার্সের শট নেওয়ার আগেই বল ঠেকিয়ে দেয় চেকিয়ার রক্ষণ। তবে ফিরতি বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে গোল করেন কেইন। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড এবং ম্যাচের জয়ও অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়।
এরপর কেইনকে তুলে নিয়ে জুড বেলিংহাম, রিও এনগুমোহা ও অভিষেক হওয়া অ্যালেক্স স্কটকে মাঠে নামান টুখেল। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে গোলরক্ষক কোভার দারুণ কিছু সেভ করে এজেব্রিচি এজে ও বেলিংহামকে হতাশ করেন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। স্পেনের কাছে আগের ম্যাচে ৩-২ গোলে হারের পর এই জয় টুখেলের দলের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185570