ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত
গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখার এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটির নাসর এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই তার নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত কমান্ডারের নাম ইজ্জ আল-দীন আল-বেইক। ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা ও সদস্য নিয়োগে তিনি জড়িত ছিলেন। হামাস তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার অন্যতম নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা জানান, ভোরে নাসর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়। এতে আল-বেইক নিহত হন। হামলায় আহত আরও একজন পরে মারা যান।
এদিন জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও একজন নিহত হন। চিকিৎসাকর্মীদের হিসাবে, মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত তিনজনে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ওই এলাকায় একজন সশস্ত্র সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামাস অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযোগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হিসাবে, চলতি মাসে হামাসের অন্তত ২০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে জড়িত সদস্য রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
তবে হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে না এবং অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনও করছে না। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলই লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস।
এদিকে মঙ্গলবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় তিন বছর আগে নিহত ৪১ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ দাফন করা হয়েছে। সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। গত মাসে গাজা সিটিতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় একই পরিবারের ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি উদ্ধারকারী দল।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের কর্মকর্তা রামি আল-আইয়েদি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে হাড়, মাথার খুলি ও চুলের অংশ পাওয়া গেলেও পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজা পুনর্গঠনের কথা থাকলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধের কারণে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185525