বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শাহিনসহ ৪ জন ৩ দিনের রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার : দুই বছরেরও বেশি সময় পালিয়ে থাকার পর অবশেষে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান শাহিনসহ ৪ জনকে।
গ্রেফতার অপর তিনজন হলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন, শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের ক্যাডার ফেরদৌস। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার অভুথ্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
এদিকে এই চার আসামিকে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করার সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাদেরকে লক্ষ্য করে একর পর এক ডিম নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র একটি টিম কক্সবাজারের কলাতলি বিচ এলাকায় একটি রিসোর্ট ও তার আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
ধৃত আসামিদেরকে বগুড়ায় আনার পর আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, গ্রেফতার আসামি সাজেদুর রহমান শাহিন (৫২) কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতিও। তার বিরুদ্ধে একাধিক খুন, অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি জমি দখল ও ভূমি দস্যূতাসহ ১১টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া আসামি ভাদুর বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।
ধৃত সাজেদুর রহমান শাহিন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বনভেটি গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে। তবে তিনি মহানগরের সবুজবাগ এলাকায় বসবাস করেন।
প্রেসব্রিফিংশেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশী প্রহরায় ভিপি শাহিনসহ এই চার আসামিকে আদালতে নেয়া হয়। এর আগে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনের সিড়িতে ডিবি পুলিশের বহনকারী মাইক্রোবাস থেকে নামানোর সময় আসামিদের একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করে উপস্থিত ছাত্র-জনতা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আদালত চত্তরে দায়িত্বরত পুলিশ, ডিবি ও সংবাদ সংগ্রহে আসা বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্যামেরা পার্সনদের শরীরেরও লাগে নিক্ষেপ করা ডিম।
এরপর আসামিদেরকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের সদর আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তদন্তকারি কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই সোহানুর রহমান সোহান তাদেরকে একটি বিস্ফোরক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানী শেষে বিচারক ৩দিন করে রিমান্ড মুঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদন মুঞ্জুর হওয়ার পর আসামিদেরকে লক্ষ্য করে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার সময় আসামিদেরকে লক্ষ্য করে আবারও দ্বিতীয় দফায় বেশ কয়েকটি ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এরপর কড়া পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185508