টেন্ডারের দুই বছরেও হয়নি ভবন, ছাপড়া ঘরে চলছে পাঠদান

টেন্ডারের দুই বছরেও হয়নি ভবন, ছাপড়া ঘরে চলছে পাঠদান

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। একচালা টিনের ছাপড়া ঘরে চলছে পাঠদান। চারদিক খোলা থাকায় সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। প্রায় দুই বছর ধরে এমন প্রতিকূল পরিবেশেই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষের অভাবে স্কুল চত্বরে একচালা ছাপড়া ঘর তৈরি করে সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। ছাপড়া ঘরের চারপাশ খোলা। বৃষ্টি কিংবা ঝড় শুরু হলে সেখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষকরা বসছেন এবং সেখানেই অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের জন্য একটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণের টেন্ডার হয়। ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে বিদ্যালয়ের পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট টিনের ঘরটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার কার্যাদেশ পাওয়ার পরও নানা অজুহাতে নির্মাণকাজ শুরু করেননি। বিদ্যালয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে এবং এতে লোকসান হবে—এমন কারণ দেখিয়ে কাজ শুরু করা হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় তাদের পাঠদান নিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম জানান, ২০২৪ সালে লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ১২ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আব্দুস সোবহান ডাবলু নামে এক ঠিকাদার কাজটি পান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় টেন্ডার আহ্বানের প্রায় ছয় মাস পর তা বাতিল করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

রাহাত ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। কারণ তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজশাহী বিভাগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পেয়েছে। ফলে এ বিষয়ে এলজিইডির বর্তমানে কোনো করণীয় নেই।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, তিনি এ উপজেলায় যোগদানের আগেই বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পুনরায় বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ২-৩টি টিনশেড ঘর তৈরির ব্যবস্থা করা হবে।

তবে কবে নাগাদ বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ হবে এবং শিক্ষার্থীদের আর কতদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠ নিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185474