বগুড়ার কাহালুতে রিকশাচালক আলমগীর আকন্দের হত্যাকারী শনাক্ত
কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার কাহালুতে চার্জর রিকশাচালক আলমগীর আকন্দ (৫০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পেরেছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার দুপুরে আলমগীর আকন্দের ভাই নজরুল ইসলাম আকন্দ বাদি হয়ে কাহালু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শান্তিনগর ইউনিয়ের উদয়পুর থল গ্রামের আবুল হোসেন আকন্দের ছেলে আলমগীর আকন্দ বগুড়া শহরতলীর বারপুর এলাকায় একাই বাসা ভাড়া নিয়ে বগুড়া শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রীসহ এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মাঝে মধ্যে তিনি তার গ্রামের বাড়িতে যেতেন।
দীর্ঘ ১০/১২ বছর ধরে বারপুর এলাকায় নুরজাহান গ্যারেজ থেকে ভাড়ায়চালিত বিকশা নিয়ে বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী পরিবহন করতেন। ঘটনার দিন শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিন গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়ে যান। এরপর তিন আর গ্যারেজে ফিরেননি। ওই দিন দিবাগত রাত পৌনে ১২টার সময় কাহালু-বগুড়া সংযোগ সড়কের কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বড়ইতলা নামক স্থানে জমির কচুরিপানার মধ্য থেকে পুলিশ তার মরদেহটি উদ্ধার করে।
একই সাথে পাশে পড়ে থাকা তার চার্জর রিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এদিকে আলগীরের মরদেহ উদ্ধারের আগে রাত সাড়ে ১১টার সময় বড়ইতলা এলাকায় শিশুসহ এক পুরুষ ও এক মহিলাকে দেখতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে পুলিশি আগমন টের পেয়ে ওই পুরুষ ও মহিলা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্তকারী এসআই নুর ইসলাম জানান, সুরুতহাল রিপোর্টে আলগীরের শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে ধারনা করা হচ্ছে হত্যাকারীরা রিকশাটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্য পরিকল্পিতভাবে নেশাজাতীয় কোন দ্রব্য খাইয়ে তাকে হত্যা করতে পারে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে হত্যার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রিকশাচালক আলমগীরকে হত্যার পর কাহালু-বগুড়া সংযোগ সড়কের দক্ষিণ পাশে মাঠের জমির কচুরিপানার মধ্যে তার মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ওই সড়ক দিয়ে রাতের বেলায় লোকজনের চলাচল থাকার কারণে হত্যাকারীরা তার রিকশাটি নিয়ে পালাতে পারেনি।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকরীদের শনাক্ত করতে পেরেছি। বর্তমানে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য জোর তৎপরতা চলছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185426