আসিয়ান কাপে আজ হামজাদের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর

আসিয়ান কাপে আজ হামজাদের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর

স্পোর্টস ডেস্ক : মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতাশাজনক হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে দলকে প্রস্তুত করছেন কোচ থমাস ডুলি। গত ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। আর মিডফিল্ডার শমিত সোম আগের দুই ম্যাচের হারের ‘প্রতিশোধ’ নিতে চান। 

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা।

সিঙ্গাপুর অনেকটা চেনা প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় শমিত বলেন, ‘ওদের সঙ্গে গত এক বছরের মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছি। এরপর আমরা দেখেছি, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ওরা কীভাবে খেলেছে। সেখান থেকে শিখছি, ভাবছি কীভাবে ওদের দুর্বল জায়গাগুলো থেকে সুবিধা নেওয়া যায় এবং কীভাবে ওদের শক্তির জায়গাগুলো ঠেকাতে হবে।’ 

আগের দুই ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা শুনে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কোচ থমাস ডুলিও, ‘আমি শুনেছি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছিল, বাংলাদেশ নাকি জিততেও পারত। যার মানে, আমাদের দ্বারা সম্ভব। আমি ছেলেদের বলে দিয়েছি, এই ম্যাচে আমাদের ভিন্ন মানসিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামবে হবে। এই ম্যাচটা আমি জিততে চাই। প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে কতটা এগিয়ে, সেসব নিয়ে ভাবতে চাই না।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচ হারায় এবার তাদের মধ্যে একটা প্রতিশোধ স্পৃহা কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন শমিত, ‘আমরা তো দুবার ওদের কাছে হেরেছি। আমাদের একটা প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আসিয়ান কাপে ভালো করার জন্য এটাও খুব ভালো একটা সময়। সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

প্রতিপক্ষের খেলার ধরন তাদের অচেনা নয় বলে মনে করেন তিনি, ‘ওদের একটা ভালো কাঠামো আছে। ওরা যেভাবে খেলে, সেটা আমরা জানি। ওদের দুই-তিনটা রোটেশন আছে, যেগুলো বিপজ্জনক হতে পারে। দুই-তিনজন খেলোয়াড় খুব বিপজ্জনক। আগের ম্যাচে ওরা আমাদের বিপক্ষে কোথায় সফল হয়েছে, সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করছি। নতুন কোচের অধীনে সেগুলো মাথায় রেখে কিছু মূল বিষয় যোগ করার চেষ্টা করছি, যাতে এই ম্যাচে ভালো করতে পারি।’ মালয়েশিয়ার কাছে হার আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিলেও সবকিছু ঠিক আছে জানিয়ে শমিত বলেন, ‘টিমের মধ্যে সবকিছু ভালো। অবশ্যই মালয়েশিয়ায় আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে সবাই খুশি নই। তবে চেষ্টা করব ভালো খেলতে। মূল বিষয় হলো, আমাদের পরের ম্যাচে এগিয়ে যেতে হবে। এখন সবার ফোকাস সিঙ্গাপুরের দিকে।’

নিউইয়র্ক কসমসের এই মিডফিল্ডারের মতে, মালয়েশিয়ার কাছে হারটি বাংলাদেশের ঘাটতিগুলোও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। শমিতের ভাষায়, ‘এই ফিফা আসিয়ান কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আমাদের জন্য বড় সম্মানের। আমরা ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলছি। একটি দেশ হিসেবে উন্নতি করতে চাইলে এ ধরনের দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য কিছুটা ধাক্কার মতো ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছি, আরও উন্নতি করতে হবে, নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে। সেই ম্যাচ থেকে আমরা শিখেছি। এখন সেই শিক্ষা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চাই।’

আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন কোচ ডুলিও, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আমরা ভালো খেলতে পারিনি, যা আমাকে রাগান্বিত করেছে। আমরা তাদের গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি। আমাদের ভুলগুলো তাদের জন্য উপহারের মতো ছিল। কিন্তু এমনটি আর করা যাবে না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’ মাঝমাঠ ও রক্ষণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। কোচ সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চান খেলোয়াড়দের মানসিকতায়। আগ্রাসী ফুটবল খেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দলের সবাইকে হামজার শরীরীভাষা অনুসরণের পরামর্শও দিয়েছেন কোচ। এ টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য আজ জিততে মরিয়া কোচ।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185355