৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসান, শতবর্ষে পরপারে মাহাথিরের স্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম।
১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন সিতি হাসমাহ। দীর্ঘ প্রায় সাত দশকের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর মাহাথির মোহাম্মদ নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সিতি হাসমাহর মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার কনিষ্ঠ সন্তান মুখরিজ মাহাথিরকে দেখা যায়। এসময় তার মুখে কালো মাস্ক ছিল। মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে তার পাশে ছিলেন সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর পর কনিষ্ঠ সন্তান মুখরিজ মাহাথিরকে হাসপাতাল থেকে মায়ের মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমি একটি দুঃখজনক সংবাদ জানাচ্ছি। আমরা তুন ডক্টর সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দান করুন।’ সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় পুত্রজায়ার প্রেসিঙ্কট ২০-এর জাতীয় কবরস্থান পুসারা নেগারাওয়ানে তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের মুখ্য সচিব ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের সহায়তায় দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
সিতি হাসমাহ চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে স্নাতক হওয়ার পর তিনি মালয়েশিয়ার প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসা কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক বিরোধের সময় দুই পরিবারের সম্পর্কেও একপর্যায়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। এর প্রভাব তাদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ ও ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সম্পর্কেও পড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে মাহাথির ও আনোয়ারের রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব পড়ে তাদের পারিবারিক সম্পর্কেও। ২০১৬ সালের নভেম্বরে সিতি হাসমাহ ও ওয়ান আজিজাহ আবারও একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। দীর্ঘ বিরতির পর সেই সাক্ষাৎ ছিল আবেগঘন। এ সময় দুজনকে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়।
সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর তাকে স্মরণ করে ওয়ান আজিজাহ বলেন, সিতি হাসমাহ ছিলেন শান্ত, দৃঢ় ও হৃদয়বান একজন মানুষ। তার ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও আন্তরিকতা ওয়ান আজিজাহকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ব্যক্তিগত জীবনেও সিতি হাসমাহ তাঁর জন্য একজন অনুপ্রেরণার মানুষ ছিলেন বলে জানান তিনি।
সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দার ও রানি রাজা জারিথ সোফিয়া। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। তারা পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময় মোকাবিলায় শক্তি ও ধৈর্য দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর শোক জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে সিতি হাসমাহর আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185351