বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড বিন্যাসে তীব্র অসামঞ্জস্যতা

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড বিন্যাসে তীব্র অসামঞ্জস্যতা

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্বমূলক অসঙ্গতির কারণে  নাগরিক অধিকারে তীব্র বৈষম্যে সৃস্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের ২১টি ওয়ার্ডের আয়তন এবং ভোটার সংখ্যার মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই।

কোথাও রয়েছে জনস্রোত ও বিশাল আয়তন, আবার কোথাও রয়েছে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসর ও কম ভোটার। এই চরম অসামঞ্জস্যের কারণে সিটির সাধারণ নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সুষম উন্নয়ন এবং সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন অফিস ও সিটি কর্পোরেশনের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ৬৬.৭৮৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,১১,৩১০ জন। কিন্তু ওয়ার্ডভিত্তিক আয়তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এক অদ্ভুত বৈচিত্র। সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (১০.২৯ বর্গ কিমি) এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ড (১১.৬৯ বর্গ কিমি)-এর আয়তন প্রায় ১০ থেকে ১২ বর্গ কিলোমিটারের কাছাকাছি।

পক্ষান্তরে, ৬ নম্বর ওয়ার্ড (০.৪৫ বর্গ কিমি) এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (০.৪৩ বর্গ কিমি) আয়তন ১ বর্গ কিলোমিটারেরও অনেক ছোট। অর্থাৎ, একটি ওয়ার্ডের আয়তন যা, তার বহু গুণ বড় অন্য ওয়ার্ডগুলো। আয়তনের মতো ভোটার সংখ্যার ক্ষেত্রেও রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সিটির কিছু ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও, অন্য কোনো ওয়ার্ডে তার চার গুণেরও বেশি ভোটার বসবাস করছেন। যেমন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী— ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে কমের দিকে (৯,৬৩৭ জন)।

অন্যদিকে, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা এক লাফে পৌঁছে গেছে ২৭,১৭২ জনে, যা সর্বনিম্ন ওয়ার্ডের প্রায় তিন থেকে চার গুণের কাছাকাছি। একইভাবে ১৩, ১৫ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডেও ভোটার ও জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, একটি সিটি কর্পোরেশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় সমানভাবে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বর্তমান ওয়ার্ড বিন্যাসে যেখানে একটি ওয়ার্ডে প্রায় ১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা সামলাতে হয় জনপ্রতিনিধিদের, সেখানে মাত্র অর্ধ বর্গ কিলোমিটারের ছোট ওয়ার্ডও রয়েছে।

এর ফলে বাজেট বরাদ্দ, রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক সেবাগুলোতে মারাত্মক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। বড় ও জনবহুল ওয়ার্ডগুলোতে বরাদ্দ কম পড়ায় সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বগুড়া সিটির সার্বিক উন্নয়নে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে অবিলম্বে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস জরুরি।

সাধারণ মানুষ মনে করছেন প্রতিটি ওয়ার্ডের আয়তন কাছাকাছি বা ভারসাম্যপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে আসা; জনসংখ্যার অনুপাত ও ঘনত্ব বিবেচনায় রেখে ওয়ার্ডের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা। সব ওয়ার্ডের জন্য সমান বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, যাতে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে কোনো নাগরিকই পিছিয়ে না থাকে।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই অসামঞ্জস্য দূর করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ওয়ার্ড বিন্যাস উপহার দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা শহরবাসীর।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185325