ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে "তরুণদের জন্য সাইবার সচেতনতা (CAYM) ২০২৬" অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, সাইবার সচেতনতা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে "তরুণদের জন্য সাইবার সচেতনতা (CAYM) ২০২৬" অনুষ্ঠিত  দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, সাইবার সচেতনতা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (CSC) এর উদ্যোগে এবং সেন্টারের পরিচালক ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী  প্রশিক্ষণ কর্মশালা "তরুণদের জন্য সাইবার সচেতনতা (CAYM) ২০২৬" অনুষ্ঠিত হয়েছে। “স্মার্ট, নিরাপদ ও সুরক্ষিত: স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলার বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।

কর্মসূচিতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহিম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৯০ জন স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী এবং ২০ জনের অধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন, আলোচনা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ডিজিটাল জীবনযাপন এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ে সচেতন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (FSIT)-এর ডিন প্রফেসর ড. মো. ফখরে  হোসেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ইমরান মাহমুদ, এবং সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের (CSC) পরিচালক ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত ইসলাম।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল Workshop on Social Media Crime & Digital Crime  শীর্ষক সেশন, যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, সাইবার অপরাধ তদন্তকারী ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সাইবার সিকিউরিটি প্রধান  

এছাড়া “Fintech Scam” শীর্ষক সেশনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং HSBC Bangladesh-এর সাইবার সিকিউরিটি প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম রাজীব অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি এবং নিরাপদ আর্থিক আচরণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। “ Online Bullying, Harassment, Fake News” শীর্ষক সেশনে উদ্যোক্তা ও উন্নয়নকর্মী এফ. এম. সারওয়ার হোসেন অনলাইন বুলিং, ভুয়া তথ্যের প্রভাব এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

সাইবার সচেতনতা বিষয়ক সেশনগুলোর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য ক্যাম্পাস ট্যুর, উন্মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ, ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনা এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক ধারণাগুলো সহজ ও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (CSC) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বিশেষ তথ্যপত্র (লিফলেট) অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যেখানে A থেকে Z  পর্যইএক সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও পরিভাষার পরিচিতি তুলে ধরা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা ও শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহিম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে একটি সচেতন, নিরাপদ এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ আয়োজন ইতিবাচক অবদান রাখবে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185297