নীলফামারীর ডিমলায় বহুমুখী চাষাবাদে বদলে গেছে কৃষির চিত্র

নীলফামারীর ডিমলায় বহুমুখী চাষাবাদে বদলে গেছে কৃষির চিত্র

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : এক সময় মঙ্গার সাথে যে ডিমলার নাম উচ্চারিত হতো, সেই জনপদে এখন অভাবের জায়গা দখল করেছে ফসলের সমারোহ। ধান ও ভুট্টার পাশাপাশি নানা জাতের সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনসহ অর্থকরী ফসলের বহুমুখী আবাদে বদলে গেছে নীলফামারীর ডিমলার কৃষিচিত্র।

তিস্তা নদীর পলিবিধৌত উর্বর মাটি, অনুকূল আবহাওয়া, সেচ সুবিধা এবং কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা। এতে এক মৌসুমের ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি কৃষকের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ডিমলায় মোট ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৪শ’ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলি জমি ১ হাজার ৩১০, দুই ফসলি ১৩ হাজার ৫২০, তিন ফসলি ৮ হাজার ৬৮০, চার ফসলি ৮৫০ এবং পাঁচ ফসলি জমি রয়েছে ৪০ হেক্টর। অর্থাৎ অধিকাংশ জমিতেই বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

ধান ও ভুট্টা প্রধান ফসল হলেও অর্থকরী ফসল হিসেবে মরিচের আবাদ কৃষকের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চরাঞ্চলের বেলে-দোআঁশ ও উঁচু জমিতে মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, গাজর ও মুলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। মৌসুমে এসব ফসল কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা আসায় স্থানীয় বাজারেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি অর্থনৈতিক গতি।

ডিমলা সদরের উত্তর কুমারপাড়া গ্রামের কৃষক মো. লেবু মিয়া এবার ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ধানের শীষ বের হয়েছে। এখন পর্যন্ত রোগবালাই দেখা দেয়নি। সারও পেয়েছি। ভালো ফলনের আশা করছি। আমি সব মৌসুমেই বিভিন্ন ধরণের ফসল আবাদ করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, কৃষকদের নিয়মিত সভা, সেমিনার ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

একসময় মঙ্গার কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করা ডিমলায় কৃষিই এখন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তিস্তার পলিমাটিতে বহুমুখী ফসলের আবাদ বদলে দিচ্ছে কৃষকের জীবন ও জনপদের অর্থনীতির চিত্র।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185201