নওগাঁর দুই উপজেলার সীমান্ত সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে চলাচলকারীরা
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার চলাচলরত একাধিক সড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। কোথাও এখনও কাঁচা, আবার কোথাও এইচবিবি হলেও সেই সড়কের ইট উঠে তৈরি হয়েছে গর্ত। এসব সড়কে বর্ষার সময় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর কারণে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলছেন, সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন এলাকাগুলো যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় না। তারপরও আশায় আছি একদিন এসব সড়ক ভালো হবে, আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে।
দেখা যায়, মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে সরকারের বয়লারের মোড় হয়ে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত এইচবিবি সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ইট উঠে গেছে। এতে কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত, আবার কিছু জায়গার ইট হয়েছে উধাও। আর ইট না থাকায় মাটির অংশ বেড়িয়ে পড়েছে। ইঁদুরের গর্তেও সড়কের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন সড়কটি দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড় থেকে গণেশপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়া হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ ম-লের বাড়ির পাশ দিয়ে আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত সড়কটি এখনও কাঁচা।
বর্ষায় সড়কটি কাদায় ভরে যায়। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বপন বলেন, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য হাটে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
মান্দা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, ওই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে রাস্তা দু’টির কাজ দ্রুত শুর করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তার কাজও করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185168