নদী-খাল দখলকারী ও পরিবেশ ধ্বংসকারীদের তালিকা করার আহ্বান
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, খাল ও নদী খনন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নাব্যতা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীর ক্ষতিসাধনকারী, খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণকারী এবং স্বার্থান্বেষী পরিবেশবিধ্বংসীদের চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করতে হবে।একই সঙ্গে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে নদী রক্ষা ও পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেন, আপনাদের মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদ-নদীগুলো এখনো টিকে আছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো নদী।
তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ব্যক্তিগত স্বার্থে মানুষই আজ নদীকে ধ্বংস করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, থানায় যেমন মাদক কারবারিদের নামের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়, ঠিক তেমনি নদী ও খাল দখলকারী এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের নামের তালিকাও প্রতিটি উপজেলায় তৈরি করতে হবে।
বর্তমান সরকারের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, খাল ও নদী খনন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নাব্যতা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং নদী-খালের পানি কৃষিকাজে সেচের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
এ ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মী ও গবেষকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পর্যালোচনামূলক আলোচনার ব্যবস্থা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একই সঙ্গে অনিয়ম ও পরিবেশ দখলের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা রাখতে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।
এ সময় বিআইডব্লিউটিএর আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।