নীলফামারীর ডিমলায় যান্ত্রিক যন্ত্রে বিলুপ্তির পথে কাঠের লাঙল, বাঁশের জোয়াল

নীলফামারীর ডিমলায় যান্ত্রিক যন্ত্রে বিলুপ্তির পথে কাঠের লাঙল, বাঁশের জোয়াল

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: পাখির কলকাকলি আর কাকডাকা ভোর। এক হাতে বাঁশের কঞ্চি, অন্য হাতে লাঙলের দড়ি। সামনে এক জোড়া বলদ, কাঁধে বাঁশের জোয়াল। কৃষকের হাঁকডাকে এগিয়ে চলছে গরুর জোড়া। পেছনে মাটির বুক চিরে যাচ্ছে লোহার ফলা বসানো কাঠের লাঙল। জমির মাটি সমান করতে চলছে বাঁশের মই। একসময় নীলফামারীর ডিমলার গ্রামবাংলার মাঠে এমন দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। এখন তা কেবল স্মৃতি।

সময়ের সাথে কৃষির ধরণ বদলে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গরু-মহিষ দিয়ে হালচাষ, কাঠের লাঙল, বাঁশের জোয়াল ও মই। জায়গা করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, রোটাভেটর ও কম্বাইন হার্ভেস্টারের মতো আধুনিক কৃষিযন্ত্র।

ডিমলা উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট আবাদি জমি ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলি জমি ১ হাজার ৩১০, দুই ফসলি ১৩ হাজার ৫২০, তিন ফসলি ৮ হাজার ৬৮০, চার ফসলি ৮৫০ এবং পাঁচ ফসলি ৪০ হেক্টর। বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের কারণে মোট ফসলি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর। ফসলের নিবিড়তা ২৩৭ শতাংশ।

ডিমলা সদর ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ছোটবেলায় হালচাষের কাজ করেছি। বাড়িতে দুই-তিন জোড়া বলদ ছিল। লাঙল, জোয়াল ও মই দিয়েই জমি চাষ করা হতো। এখন এসব দেখাই যায় না।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ কমানোর বিষয়টি কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কম সময়ে জমি প্রস্তুত করে ফসল আবাদ করতে কৃষকেরা আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করছেন। ফলে গরু-মহিষ দিয়ে হালচাষের প্রচলন কমে যাচ্ছে। তবে লাঙল-জোয়াল ও হালচাষ গ্রামীণ কৃষি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। আধুনিক কৃষির পাশাপাশি এ ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগও প্রয়োজন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185076