বগুড়ায় আইনজীবীকে কোপালো সন্ত্রাসীরা, একজন ধরা পড়লে ছিনিয়ে নেয় ১০ জন

বগুড়ায় আইনজীবীকে কোপালো সন্ত্রাসীরা, একজন ধরা পড়লে ছিনিয়ে নেয় ১০ জন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরের দত্তবাড়ি এলাকাকে কেন্দ্র করে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে ছিনতাই ও পকেটমারিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না আইনজীবীও।

ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় অপরাধীরা এড. মাহবুব হাসানকে কুপিয়েছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় দত্তবাড়ী শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের কাছে তার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, আদালতের কার্যক্রম শেষ করে এড. মাহবুব হাসান রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধা আনুমানিক ৭টায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে পৌঁছুলে পকেটমার ও ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। এসময় একদল ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করে তার কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন এড. মাহবুব সাহসিকতার সাথে এক ছিনতাইকারীকে  ধরে ফেলেন, তবে অন্যরা পালিয়ে যায়।

এরপর আটক ছিনতাইকারীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তেই উত্তর চেলোপাড়া ব্রিজের দিক থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই ছিনতাইকারীসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল এসে এড. মাহবুবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা রামদা ও চাপাতি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ওই হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক জানান। আহত মাহবুব হাসান (৩২) বগুড়া জজ কোর্টের একজন তালিকাভুক্ত আইনজীবী এবং সদরের দশটিকা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আহমদ আলী মন্ডলের ছেলে।

এব্যাপারে সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী জানান, এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। পুরিশ হামলাকারীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দত্তবাড়ি এলাকায় এদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।

এর আগে ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দত্তবাড়ি সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এলাকায় সতর্কীকরণ পোস্টার দেয়ালে সাটা হয়। বগুড়া জেলা সিএনজি ও অটোরিকশা মালিক সমিতি, দত্তবাড়ি বণিক সমিতি ও আনু মেমোরিয়াল ক্লাব বগুড়ার উদ্যোগে দেয়ালে সাটানো সতর্কীকরণ পোস্টারে বলা হয় দত্তবাড়ি এলাকার সকল ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী সাধারণকে সতর্ক করা যাচ্ছে যে, অত্র এলাকায় পকেটমার ও মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় আপনাদের টাকা,মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখুন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দত্তবাড়িতে ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের একটি বড় অংশ বসবাস করে উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টি এলাকায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সান্দারপট্টি থেকেই প্রতিদিন ছিনতাইকারী ও পকেটমাররা দত্তবাড়ি এলাকায় এসে টাকা বা মোবাইল ফোন ছিনতাই বা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। বিশেষ করে দত্তবাড়ি এলাকায় যখন যানজট ও ভিড় হয় তখন সেই সময়কে কাজে লাগায় তারা। ছিনতাই করার পর হাত বদলের মাধ্যমে টাকা ও মোবাইল ফোন তাদের গন্তব্যে নিয়ে যায়। সেইসাথে দত্তবাড়িতে যাত্রীরা যখন সিএনজি চালিত আটোরিকশা বা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় উঠানামা করে তখন পকেটমাররা তাদের কাজ সম্পন্ন করে।

স্থানীয়রা বলেন, দত্তবাড়ি এলাকায় ছিনতাইকারী,পকেটমার ও মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচার উপদ্রবে মানুষ অতিষ্ট। পাশাপাশি এলাকা হওয়ায় দত্তবাড়ি ব্রিজ পার হয়ে এসে  দত্তবাড়িতে এসে তারা তান্ডব চালায়। দত্তবাড়ি সিএনজি আটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও এ্যাজমা কেয়ার পর্যন্ত এাদের দৌরাত্ম্য বেশি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত  সক্রিয় থাকে তারা। পথচারী ও যাত্রীদের টার্গেট করে তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে বা পকেট মেরে নিয়ে যায়।

তারা আরো বলেন, আমরা ছিনতাইকারী ,পকেটমার ও সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। ৮-১০ জন করে দল বেঁধে এসে মানুষের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নিচ্ছে। আবার ব্লেড দিয়ে পকেট বা ব্যাগ  কেটে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দত্তবাড়ি সিএনজি স্টান্ডে পকেটমারদের প্রধান টার্গেট হলো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা। তারা তাদের কাছ থেকেই বেশি ব্যাগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এদের অত্যাচারে শান্তিপ্রিয় মানুষ অতিষ্ট।

স্থানীয়রা আরো বলেন, দত্তবাড়িতে ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্র এতোটাই দুর্ধর্ষ যে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কেউ সাহস পায়না। এদের একজন ধরা পড়লে পাশের গ্রাম উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টি থেকে ১০—১২ জন এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাদের হাতে যাত্রী সাধারণ, ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে
এবিষয়ে সদর থানার ওসি মো. ইব্রহীম আলী বলেন তালিকা ধরে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিমাসে চাকুসহ ৭/৮ জন করে সন্ত্রাসী ও পকেটমার ধরা পড়ে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185065