লোকসানে আগাম জাতের আমন চাষিরা
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই। নতুন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও হাসি নেই চাষিদের মুখে। উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের বাজারমূল্য কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় তুলনামূলক উঁচু জমির মাঠে চলছে আগাম আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের ধুম। কিন্তু সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, কাটা ও মাড়াইসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের বর্তমান বাজারদরে খরচই উঠছে না তাদের। ফলে ভালো ফলন পেয়েও লোকসানে পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর। এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২২ মণ। প্রতি মণ ধান প্রকারভেদে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের।
আলাদীপুর ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের কৃষক সেলিম হোসেন জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ ধান চাষ করেছেন। এ জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শিবনগর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের ধান চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ, ঋণের টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাই বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে অনেকেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ফুলবাড়ী বাজারের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগাম জাতের হাইব্রিড ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। ধান-চাল ব্যবসায়ী সাহাগার রহমান জানান, আগাম জাতের হাইব্রিড ধান বর্তমানে ৭৫০ থেকে ৯শ’ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির নেতা মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমে গেছে। চাল আমদানির এ প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকবে। এমন হলে আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান বলেন, ধানের বাজারদর যেহেতু কৃষি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না তাই কৃষকের লাভ লোকসানের বিষয়ে বলার কিছু নেই। তবে উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সময়ে কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185040