বানর ও মুরগির বুদ্ধি পরীক্ষা

বানর ও মুরগির বুদ্ধি পরীক্ষা

একটি ঘন সবুজ বনের পাশে ছিল একটি ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল একটি বড়ো আমগাছ। সেই গাছে থাকত এক চঞ্চল বানর। আর গাছটির নিচেই একটি খামারে থাকত কয়েকটি মুরগি। তাদের মধ্যে একটি সাদা মুরগি ছিল খুব শান্ত, পরিশ্রমী ও বুদ্ধিমতী। বানরটি সারাদিন গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াত। নিজের শক্তি ও চটপট ভাব নিয়ে তার ছিল ভীষণ অহংকার। সে প্রায়ই নিচে থাকা মুরগিদের দেখে হাসত। একদিন বানরটি বলল,—”তোমরা কী অদ্ভুত প্রাণী!” উড়তে পারো না, গাছে উঠতে পারো না, শুধু সারাদিন মাটি খুঁড়ে বেড়াও! সাদা মুরগিটি শান্তভাবে বলল,—সব প্রাণীর ক্ষমতা একরকম নয়। যার যে কাজ, সে সেই কাজেই গুরুত্বপূর্ণ। বানরটি মুরগির কথা শুনে আরও হাসল। সে বলল, —”আমার মতো বুদ্ধিমান আর শক্তিশালী কেউ নেই!”

কয়েক দিন পর এক ভোরে গ্রামের এক কৃষক মধু মিয়া আমগাছের নিচে কিছু খাবার রেখে একটি ফাঁদ পেতে গেল। বানরটি খাবার দেখে লোভ সামলাতে পারল না। মুরগিটি দূর থেকে সবকিছু দেখেছিল। সে বুঝতে পারল, খাবারের আশেপাশে নিশ্চয়ই কোনো বিপদ আছে। সে বানরকে সতর্ক করে বলল,—”বন্ধু, সাবধানে যাও।” খাবারটি এত সহজে এখানে কেন রাখা হয়েছে, আগে সেটা ভেবে দেখো। কিন্তু অহংকারী বানরটি তার কথা শুনল না। রেগে বলল,—”তুমি আমাকে বুদ্ধি শেখাবে?”এই বলে সে লাফিয়ে খাবারের দিকে এগিয়ে গেল। 

খাবার ধরতেই ফাঁদটি বন্ধ হয়ে গেল। বানরটি ভয় পেয়ে চিৎকার করতে লাগল। সে অনেক চেষ্টা করেও বের হতে পারল না। মুরগিটি দ্রুত তার অন্য সঙ্গীদের ডাকল। তারা সবাই মিলে কৃষকের আসার আগেই ফাঁদের আশপাশে মাটি খুঁড়তে লাগল। মাটি আলগা হয়ে গেলে ফাঁদের একটি অংশ ঢিলে হয়ে যায়। বানরটি সুযোগ বুঝে জোরে টান দিয়ে বেরিয়ে এলো। মুক্ত হয়ে বানরটি লজ্জায় মাথা নিচু করল। সে মুরগির কাছে এসে বলল,—”আজ বুঝলাম, শুধু শক্তি বা চটপট হলেই সব হয় না। অন্যের বুদ্ধি ও পরামর্শকেও সম্মান করতে হয়।” মুরগি মৃদু হেসে বলল,—”ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ।”
সেদিন থেকে বানরটি আর কাউকে ছোটো করে দেখত না, বরং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শিখল। কাউকে ছোটো করে দেখা উচিত নয়; অহংকার মানুষকে বিপদে ফেলে, আর বুদ্ধি ও ভালো পরামর্শ বিপদ থেকে রক্ষা করে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/185022