অনার্সের ফলাফল প্রকাশের আগেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হলেন ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী
ঢাবি প্রতিনিধি : অনার্স পরীক্ষার ফলাফলের আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বসে বাজিমাত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দশ শিক্ষার্থী।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা।
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই এবার অনার্স পরীক্ষার ফলাফলের আগেই বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
আইন বিভাগের ৪৮ ব্যাচ থেকে মোট দশজন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো বিজেএস পরীক্ষায় বসেই প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং সর্বশেষ ধাপ মোখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জাজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সুপারিশপ্রাত্তরা হলেন পারভেজ রহমান, হানিফ, শাওলিন আক্তার আলো, মহিউদ্দিন রুমন, ফজলে রুহানি, মাহিয়া মারইয়াম, সুরাইয়া কবির, ফয়সাল প্রিথুল, এস এম বাকীবিল্লাহ ও আইনুল হক।
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী পারভেজ জানান, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বিভাগের অনার্স পরীক্ষা দুই মাস এগিয়ে পরীক্ষা নেয় আইন বিভাগ। যার ফলে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
নিজের সাফল্যের পেছনে বাবার অনুপ্রেরণাকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পারভেজ। তিনি বলছেন, ‘মূলত বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই পরিশ্রম করেছি। সেই লক্ষ্যেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিশ্রম করার চেষ্টা করেছি। বাবার অনুপ্রেরণাতেই পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছি।’
মাহিয়া কবির জানালেন, ‘মাস্টার্সের ক্লাস ও পরীক্ষা সামলিয়ে বিজেএস পরীক্ষা চালিয়ে নেয়া আমার জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। এর মধ্যেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি এইটা আমার জন্য অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার।’
আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মাহিয়া মারইয়াম বলছিলেন, আল্লাহ তার বান্দার পরিশ্রম নষ্ট করেন না। মা বলতেন, ‘তুমি যাদেরকে তোমার আদর্শ মনে কর, তোমাকে আমি তাদের থেকে কখনো কম যোগ্য মনে করি না’। আম্মুর এই কথাটা সবসময় আমাকে সাহস জুগিয়েছে, আমার সফলতাকে তরান্বিত করেছে।
বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিজেএস পরীক্ষায় বসেন উল্লেখ করে সুরাইয়া কবির বলেছেন, ‘অনার্সে আমার সিজিপিএ ৩.৭৫। আমি আমার ব্যাচে অনার্সের রেজাল্টে ২য় হয়েছিলাম। আর জুডিশিয়ারিতে আসা মূলত আমার বাবার স্বপ্ন ছিলো। এটাই আমাকে জজ অথবা শিক্ষক হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184921