রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বুধবার নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি’ তিনি এ প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গারাই নয়, কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসীপাচার, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামানো হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।তার ভাষায়, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে, অনির্দিষ্টকাল ধরে শুধু বাংলাদেশের ওপর এই দায়িত্ব বহনের প্রত্যাশাও করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।’ তবে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।