নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি-হুইলার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি-হুইলার

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বগুড়ার ঢাকা-রংপুর চার লেন মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে থ্রি-হুইলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। চার লেনের এই ব্যস্ততম মহাসড়কজুড়ে ট্রাক ও দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চার্জার রিকশা ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার। সার্ভিস লেন ও মূল লেন আলাদা না মেনে মহাসড়কের মাঝখান দিয়েই এসব যানবাহন বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

শুধু মহাসড়ক নয় দেশের শহর-বন্দর-গ্রামের সড়ক ছেয়ে গেছে ব্যাটারিচালিত ‘থ্রি হুইলার’ রিকশা ও ইজিবাইক। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে রুট পারমিট ছাড়াই রাস্তায় চলাচল করছে এসব বাহন। অবাধে বিচরণের কারণে উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা, এমনকি মহাসড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে জটলা। সড়ক-মহাসড়কে এসব থ্রি-হুইলার এখন গলার কাঁটা। মহাসড়কে এসব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা তা মানছেন না কেউ। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেই মহাসড়কে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারজাতীয় যানবাহন। এমনকি সড়ক-মহাসড়কে উল্টো পথেই চলছেন চালকরা। অনেক সময় ইউটার্ন নেয়ারও ধার ধারেন না তারা। এতে প্রতিদিন ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। পঙ্গু হচ্ছে হাজারো মানুষ, যেন দেখার কেউ নেই।

অথচ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার জনস্বার্থে ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, অটো টেম্পো এবং সব শ্রেণির অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে নিষিদ্ধ করে। নিষিদ্ধ ঘোষণা যেনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কাজের কাজ বাস্তবে বাস্তবায়ন হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী থেকে শিবগঞ্জ, মহাস্থান, মোকামতলা, বাঘোপাড়া সোনাতলাসহ বেশ কয়েকটি রুটে এসব থ্রি-হুইলার যাতায়াত করে। এমনকি মহানগরের মাটিডালিসহ মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে রয়েছে এসব বাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। আইনের তোয়াক্কা না করে পুলিশের নাকের ডগার ওপর চলে এসব জায়গায় যাত্রী ওঠানামা।

এছাড়াও শহরের সাতমাথার কয়েকটি স্ট্যান্ড থেকে মহাসড়ক ধরে শেরপুর পর্যন্ত কয়েকটি রুটে চলছে এসব তিন চাকার বাহন। মহানগরের বনানীতে এসব অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। শুধু বনানীতেই নয় মহাসড়কের সবগুলো বন্দরেই রয়েছে এসব বাহনের স্ট্যান্ড। এসব বাহনের চালকদের বেপরোয়া আচরণে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশজুড়ে যানজট লেগেই থাকে।

মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বলছেন, মহাসড়কে সিএনজি চালানো নিষেধ এবং এতে ঝুঁকি আছে। কিন্তু পেটের দায়ে ও পরিবারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়। মূল সড়ক ছাড়া ভেতরের রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাঁদা বা লাইন খরচ না দিয়ে মহাসড়কে উঠলে পুলিশ কেস দেয় বা গাড়ি আটকে রাখে। বাধ্য হয়েই প্রতিদিন জমানো টাকার একটি অংশ চাঁদা হিসেবে দিয়ে গাড়ি চালান বলে অভিযোগ করেন তারা।

ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার আলাদা সার্ভিস লেন থাকলেও মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে কেন গাড়ি চালাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে চালকদের দাবি, সার্ভিস লেনগুলোতে বিপরীত দিকের গাড়ি চলাচলা করে এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। সার্ভিস লেনে কেউ নিয়ম মানতে চান না। মূল লেনে চলাচলে নিষেধ থাকলেও একমুখী চলাচল করা যায়। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে ফাঁকি দিয়ে চলাচল করতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না।

মাঝে মাঝে ধরা পড়লেও অল্পতেও পার পাওয়া যায়, দাবি তাদের।  জানতে চাইলে কুন্দরহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. রইছ উদ্দিন দৈনিক করতোয়া’কে বলেন, থ্রি-হুইলার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো মহাসড়কের সার্ভিস লেন মেনে চলাচল করার কথা। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে এসব বাহনকে সব সময় আইনের আওতায় আনা যায় না। পুলিশের এই কর্মকর্তা দৈনিক করতোয়া’কে আরও বলেন, বগুড়ার শাকপাল থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কে জন্য মাত্র একটি গাড়ি।

সড়কে দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত থাকায় মহাসড়কে এসব যানবাহন তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে লেন না মেনে চলাচল করে। তিনি দৈনিক করতোয়া’কে বলেন, মহাসড়কে এসব বাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184848