রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলন নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায়ের পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়। তার স্ত্রী চম্পা খাতুন ও তার দুই শিশুসন্তান এ সময় উপস্থিত ছিল।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছোট্ট দুই শিশুসন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন কেউ নেই।’
নিহত রুনার ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতেন। বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিতে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের নতুন বাড়িতে ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ে সিনহা আক্তার (৯) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে হুসাইনকে নিয়ে স্ত্রী রুনা খাতুন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ছেলে হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুজন পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়।
পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে সেদিন মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত ও অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলনসহ একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184800