কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫ জন কোনোটিতে ৭-৮ জন
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। কোথাও শিক্ষক অনুপস্থিত, কোথাও অনিয়মিত পাঠদান, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেমেছে হাতেগোনা কয়েকজনে। এতে সরকারি বিদ্যালয় নিয়ে হতাশা নেমে এসেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে।
উপজেলার শিমুলবাড়িয়া, চকচকিয়া, জালালতাইড়, গারামারা, গারামারা সিপি ও পাতিলবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অত্যন্ত কম। কোনো বিদ্যালয়ে ৫ জন, কোনোটিতে ৭-৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো বিদ্যালয় নিয়মিত খোলাও হয় না।
সম্প্রতি মুক্তিনগর ইউনিয়নের চকচকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুল কবীর মাত্র ৫জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পান। শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও শিক্ষার্থীর এমন কম উপস্থিতিতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বিদ্যালয়টির বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত না হলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফলে সামর্থ্যবান অনেকেই সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত হচ্ছে না কেন? শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের নজরদারিই বা কতটা কার্যকর?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এত অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয় চালানো দুঃখজনক। তবে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত না হলে আমরা কি করব? উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিশ সাফি বলেন, কিছু শিক্ষকের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কথা শুনেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184735