বগুড়ার শেরপুরে দুই শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তায় জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হলো ৯ শিশু

বগুড়ার শেরপুরে দুই শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তায় জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হলো ৯ শিশু

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে নয়জন শিশু শিক্ষার্থীকে প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখার পর দুই শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তায় জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেল সবাই। এ ঘটনায় অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষিকা শেরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া শিশুরা হলো মামুন (১২), ওমর ফারুক (১২), সীমান্ত (১১), হান্নান (১৩), সুমন (১২), সাব্বির (১২), সিয়াম (১১), ফয়সাল (১৩) ও রিফাত (১২)।

এলাকাবাসী ও শিশুদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে নয়জন শিশু শিক্ষার্থীকে ছবি তোলা ও ১শ টাকার করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী বড়ভাই স্থানীয় মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মুকুল হোসেনের ছেলে মোতালেব সহ কয়েক জন ৯ জন শিশুকে একটি ইজিবাইকে (অটো) তুলে নিয়ে শাজাহানপুর থানার ৯ মাইল এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি গোডাউন ঘরের মধ্যে জিম্মি করে রাখে।

এ সময় তাদেরকে নানা ধরনের ভয় দেখায়, বেলা ৩টার দিকে ৫ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল হান্নান ও রিফাত নামের দুই শিশু শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে গাড়িতে করে মহিপুর বাজারে চলে আসে। পরে তারা স্বজন ও স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে অভিভাবকরা গিয়ে জিম্মিদশা থেকে সব শিশুকে উদ্ধার করেন। এ সময় তিন জন পালিয়ে যায় বলে অভিভাবকরা জানান।

অভিভাবকরা জানান, মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মুকুল হোসেনের ছেলে মোতালেব, শাহিন মাস্টারের ছেলে হাসান, জামতলা এলাকার রাব্বি, আশিক ও নয় মাইল এলাকার সাব্বির হোসেন সহ আরও কয়েকজন এই ঘটনার সাথে জড়িত আছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা ফেন্সি বেগম বলেন, ছেলেটি বাসায় এসে জিম্মির ঘটনাটি জানালে আমি দ্রুত অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং শিশুদের উদ্ধার করি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ছাত্ররা স্কুলের বেঞ্চে বই রেখে চলে গেলে ম্যাডাম ২য় শ্রেণির ক্লাসের পর অভিভাবকদের ফোনে বিষয়টি জানান। অভিভাবকরা দুপুরে ম্যাডামকে জানান ছাত্ররা এখনো বাড়িতেও আসেনি, অথচ স্কুল ছুটি দিয়ে তারা বাড়িতে চলে গেলেন বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি, এটি বড় ধরনের গাফিলতি।

মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাকিলা পারভীন জানান, আমি গতকাল সোমবার ছুটিতে ছিলাম, সন্ধ্যায় এক অভিভাবক আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে আমি তাদেরকে সাথে নিয়ে শেরপুর থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করলে তিনি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিলে এক অভিভাবক বাদি হয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। পরের দিন মঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে জানতে পারি ৯ জনের মধ্যে ৪ জন ছাত্র স্কুলে এসে বেঞ্চের উপর বই রেখে চলে যায়।

তারা এসেম্বেলিতে অংশগ্রহন করেনি, এমনকি প্রথম ক্লাসে হাজিরায় উপস্থিত না থাকায় দ্বিতীয় ক্লাসে ম্যাডাম তাদের অনুপস্থিত দেখে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরকে ফোনে জানান। টিফিনের সময় অভিভাবকরা এসে জানান তারা বাড়িতে ফিরেনি এবং কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা, পরে ২জন পালিয়ে আসলে অভিভাবকরা সবাই গিয়ে ৫টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করে বলে শুনেছি। মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শন করেছেন এবং ওই সকল ছাত্রদের সাথে কথা বলেছেন।

সহকারী শিক্ষা অফিসার মমিনুল ইসলাম জানান, আমরা আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানতে পেরে স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের সাথে কথা বলেছি, তারা প্রলোভনে পড়ে তাদের সাথে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান। এতে শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের কোন গাফিলতি আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ঘটনায় বিষয়ে এক অভিভাবক ৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, পুলিশ কাজ করছে খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184721