চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ইরামকে পা হারাতে হয়েছে, আটক ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি : বগুড়ায় সহপাঠীদের মানববন্ধন

চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ইরামকে পা হারাতে হয়েছে, আটক ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি : বগুড়ায় সহপাঠীদের মানববন্ধন

শহর প্রতিনিধি: বগুড়ায় ৪দফা দাবিতে মানবন্ধন করেছে পা হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরামের সহপাঠী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্য এবং অভিভাবকগণ। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মহানগরের সাতমাথায় জিলা স্কুলের গেটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও অংশ নেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইরামের সাথে থাকা বন্ধুদের সাথে আনসার বাহিনীর মারামারির ঘটনায় জেল হাজতে থাকা অপর চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরাও।

মানববন্ধনে পা হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী ইরামের বন্ধু পরিচয়ে কথা বলেন খন্দকার জাহিদ হাসান জয় । তিনি গণমাধ্যমকে জানান তারা তাদের সহপাঠী ও বন্ধু ইরামরে জন্য সুনির্দিষ্ট ৪টি দাবিতে আজকের মানবন্ধনে অংশ নিয়েছেন।

দাবিগুলো হলো: শজিমেকে ইরামের চিকিৎসার বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ওই ঘটনায় জেল হাজতে থাকা তাদের অপর চার মেধাবী বন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় দালাল মুক্ত করা এবং পা হারানোর ইরামের সুচিকিৎসাসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণকরা।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ইরামের আরেক সহপাঠী মাহির তাজওয়ার । তিনি জানান, ইরামের শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত অংশে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তা সঠিক ছিল না বলে ঢাকার চিকিৎসকরা তার পরিবারকে জানায়। কালক্ষেপণ না করে তাকে যদি যথাপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হতো এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ছাড়পত্র দিয়ে বা অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতো তাহলে ইরামকে তার পা হারাতে হতনা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইরামের দাদা রফিকুল ইসলাম জানান, ইরাম ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত ছিল। পরিবার, দেশ ওসমাজের জন্য ভবিষ্যতে সে একজন উদাহরণ হতে পারতো। একটি সম্ভাবনায় জীবন অকালেই পঙ্গুত্ব বরণ করলো। ভবিষ্যতে আর কোন ঘটনায় ইরামের মতো যেনো কারও প্রতিবন্ধীত্ব বরণ করতে না হয় এজন্য চিকিৎসা ভ্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবী করেন তিনি।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ওই ঘটনায় জেল হাজতে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিনের বাবা প্রকৌশলী মোঃ রুহুল উদ্দিন ও ইরামের চাচাতো ভাই মাহমুদুল হাসান রাজন। প্রশাসনকে তাদের বিষয়ে আরও তদন্ত করারও দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে মেধাবী শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরামের প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বগুড়া জিলা স্কুল ও বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বগুড়া সরকারি কলেজজের সহপাঠী,বন্ধু,পরিবারের সদস্য এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবকরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতে অংশ নেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তারা জেলা প্রশাসক বরাবর এই ঘটনার জন্য ৪ দাবী সহ স্মারকলিপি পেশ করবেন বলে জানান ইরামরে পরিবারের সদস্য ও আয়োজক সহপাঠীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ইরাম। তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং ট্রলি নিয়ে আসতে গেলে ট্রলিম্যান টাকা দাবি করে এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের সাথে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

আনসার সদস্য আহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরামের বন্ধু চার কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করেছিলো পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক চারজন ছিলেন, বোরহান উদ্দিন (১৮), তানভীর আহমেদ (১৭), সামির আহম্মেদ (১৮) ও রিশাদ (১৭)।

তারা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাবী শিক্ষার্থী। এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় আনসার কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন এবং ইরামের বাম পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত অংশে পচন ধরায় চিকিৎসকদের পরামর্শে গতকাল সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184707