কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩ বছরেও চালু হয়নি সবজির মার্কেট
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পাঙ্গা এলাকা সবজির রাজ্য বলে পরিচিত। এ অঞ্চল বেশ চওড়া(উঁচু) হওয়ায় সব মৌসুমে বেগুন, মুলা, আলু, পটল, করলা, শসা, ঝিঙা, লাউসহ সবধরণের শাক-সবজির চাষাবাদ ভালো হয়। কিন্তু এসব সবজি সঠিক সময়ে বিক্রি করতে না পেরে কৃষকদের লোকসান গুণতে হয়।
কৃষকদের দুঃখ লাঘবে কুড়িগ্রাম এলজিইডি ২০২১ সালে পাঙ্গাহাটে ৩০ শতাংশ জমির ওপর গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ২০২৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
ভবনে শাক-সবজির বিক্রির জন্য ১৮টি দোকান ও ৬টি বিক্রয়কেন্দ্র(আড়ৎ) ও পানি, বিদ্যুৎ এবং শৌচাগারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ভবনটি গত তিন বছরেও চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবনটি কার্যকরভাবে ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মিত ভবনের চারপাশে আগাছা ও অপরিচ্ছন্নতা। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েক জায়গায় পলেস্তারা ধসে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে বৈদ্যুতিক সুইচ। ভবনের ভেতর মাদক সেবনের চিহ্নও দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয়রা জানান, পাঙ্গাহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম তুলনামূলক কম। উপজেলা সদর রাজারহাট বাজার মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেক ক্রেতা সেখানে কেনাকাটা করেন। এছাড়া পাঙ্গা হাটের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বড় একটি অংশ মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নেন। ফলে স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্যের বেচাকেনাও সীমিত।
ব্যবসায়ী মো. নূরনবী ইসলাম বলেন, পুরো বাজারে শাক-সবজি বিক্রির দোকান মাত্র দুটি। সারাদিনে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকার মতো বিক্রি হয়। এলাকার অধিকাংশ সবজি মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নেন। আর কৃষকেরা অবশিষ্ট পণ্য রাজারহাটে নিয়ে বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ী মো. মাসুম রানা মন্ডল বলেন, ক্রেতা কম হওয়ায় কৃষকেরাও পাঙ্গা হাটে আসতে চান না। মার্কেটটি অন্যত্র বা রাজারহাট সদর বাজারে নির্মাণ হলে বেশি উপকার হতো। এছাড়া ভবনের অধিকাংশ দোকান দোতলায় হওয়ায় ক্রেতারা সেখানে উঠতে আগ্রহী নন।
পাঙ্গা হাটের হাট কমিটির সদস্য মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, এই ভবন থেকে কোনো আয় নেই। তাই ব্যয় করতেও আমরা রাজি নই। এই ভবন আর চালু হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী মো. এজাহারুল হক বলেন, নির্ধারিত নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ভবনটি হাট কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184692