সিরাজগঞ্জে যমুনায় আবারও ভয়াবহ ভাঙন বিলীনের পথে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জে যমুনায় আবারও ভয়াবহ ভাঙন বিলীনের পথে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামের চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিমে আবারও যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের  পশ্চিম পাশে হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সবাই। বিদ্যালয়টি রক্ষায় ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে যে কোনো মুহূর্তে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এবিষয়ে ওই স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী জানান, এ এলাকার মানুষ নদী ভাঙনে নিঃস্ব, অসহায় ও হতদরিদ্র হয়ে পরেছে। নিজেদের সন্তানদের পড়া-লেখা করিয়ে মানুষ করবো তাও হচ্ছে না।

তাদের পক্ষে পয়সা খরচ করে দূরের স্কুলে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা করানোর সামর্থ্য নেই। স্কুলটি ভেঙে গেলে তাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে স্কুলটি রক্ষা করে অসহায় অভিভাবকদের সন্তানদেরকে পড়া- লেখা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে  হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়। এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় থেকে ১৫ ফিট দূরুত্বে রয়েছে নদী। যেকোনো মূহুর্তে বিদ্যালয়ের ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে বিলীন হয়েছে।

বিদ্যালয়টিতে ৪টি গ্রামের নদী ভাঙন কবলিত হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ জন ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে। আশপাশে আর কোনো স্কুল নেই। তাই এ স্কুলটি তাদের একমাত্র ভরসা। এদের মানবিক বিষয় বিবেচনা করে স্কুলটি রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্কুলটির পশ্চিম পাশে ভাঙন কবলিত স্থানে বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে স্কুলটি রক্ষা করা সম্ভব হতো। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এদিকে চৌহালী  জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙন কবলিত এলাকায় এখনই জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা না হলে এ বিদ্যালয়টিও হারাতে হবে। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে স্কুলটি রক্ষা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ করেই চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিমে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়েছে। চৌহালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম যমুনা নদী ভাঙনের মুখে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

অথচ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে অচিরেই ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184593