বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ৩

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ৩

শহর প্রতিনিধি : বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বগুড়া শহরতলীর  টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের দুর্ঘটনায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত হন।

নিহতরা হলেন-বগুড়ার কাহালু উপজেলার রামপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আরাফাত (১৬)।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইচ উদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। পথে হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত মারা যান। আহত হন অটোরিকশার আরও তিন যাত্রী।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি রইচ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত দুজনের মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটি শনাক্ত ও আটক করতে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, স্বজনের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন খাদিজা বেগমের (৫২)। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বজনের লাশ নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সই উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তার ছেলে, পুত্রবধূ ও তিন বছরের নাতি আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাথইলচাপড় এলাকায় রানীরহাট-মালঞ্চা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজা বেগম বগুড়া সদরের বানদিঘী-ইসবপুর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান মণ্ডলের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন তার ছেলে শাহ পরান (২৮), পুত্রবধূ জুই আক্তার (২২) ও নাতি সাব্বির (৩)। 

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগমের মেয়ে জান্নাতির শাশুড়ি কোহিনূর বেগম (৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। পরে ভোরে কোহিনূর বেগমের লাশ নিয়ে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে নন্দীগ্রাম উপজেলার বনগ্রামে তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটিতে কোহিনূর বেগমের লাশের সঙ্গে ছিলেন খাদিজা বেগম, তার ছেলে শাহ পরান, পুত্রবধূ জুই আক্তার ও নাতি সাব্বিরসহ পরিবারের কয়েকজন।

শাহ পরান জানান, মাথইলচাপড় এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এসময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশের একটি সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে তার মা খাদিজা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি, তার স্ত্রী ও ছেলে আহত হন। দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সচালক পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি আশিক ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কোহিনূর বেগমের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় নিহত খাদিজা বেগমের লাশ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। আহত তিনজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184487