৮০ বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেল ও ২টি ফ্রিজ তুলে দিল এমইপি গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বিনিয়োগের পথে প্রতিষ্ঠানটি

৮০ বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেল ও ২টি ফ্রিজ তুলে দিল এমইপি গ্রুপ  অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বিনিয়োগের পথে প্রতিষ্ঠানটি

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশের অন্যতম পুরোনো ও সুপরিচিত বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্য়মে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন কারখানার মাধ্যমে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা, গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বাড়িয়ে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজারে বড় অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই বৃহৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে বাজার আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে এমইপি গ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘MEP Accessories Super Offer, 2026 Grand Achiever Celebration’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও ২টি ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় এমইপি পণ্য প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ একর জমির ওপর প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের কারখানাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমইপি গ্রুপের প্রত্যাশা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, “এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নত মানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। এ উদ্যোগ শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, “নতুন কারখানাটি শুধু আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নয়; এটি পণ্যের মান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। আমরা খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”

এমইপি গ্রুপ জানায়, পুরস্কার বিতরণ কার্যক্রমটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রচারণা নয়; এটি নতুন কারখানা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে ঘিরে ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, বাজারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, মানসম্মত পণ্য এবং নতুন উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় এমইপির পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। ‘MEP Accessories এর বিশেষ অফার অক্টোবর হতে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে

এমইপি গ্রুপের পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, “৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও ২টি ফ্রিজ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছি। সামনে নতুন কারখানার উৎপাদন বাজারে আসবে। তাই এখন থেকেই অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে যৌথভাবে বাজার বাড়ানো এবং নতুন পণ্যের জন্য শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের স্বীকৃতি প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে এমইপি গ্রুপ নতুন কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখতে চায়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184409