টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ জানালেন জ্যোতি

টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ জানালেন জ্যোতি

দীর্ঘ চার বছরের নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতির। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বে আর থাকবেন না এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

ইতিমধ্যেই বিসিবিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

রোববার ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ১১৪ রানের বিশাল হারের পরও নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন জ্যোতি, ‘আমার কাছে মনে হয় একজন ব্যাটার এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।

তাই আমি সেদিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’

 

২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর জ্যোতি বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

২০২৬ সালের এশিয়া কাপের পর পর্যন্ত ৮১ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তাঁর জয় ৩২টি, হার ৪৮টি। তাঁর নেতৃত্বেই ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্যোতির নিজের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার ঘাটতি ফুটে উঠেছে। চলতি বছরের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংস খেললেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন ২৭। ভারতের বিপক্ষে ৩২ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬ রান করে বিশ্বকাপেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রেখেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের পর এশিয়া কাপে অবশ্য রান পাননি জ্যোতি। চার ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৫৬ রান। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৩ এবং ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১৯। 

তবে জ্যোতির সাফল্যও কম নয়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। মূল বিশ্বকাপেও নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারায় জ্যোতির দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জ্যোতির ৩৬ রানের সঙ্গে স্বর্ণা আক্তারের ৩৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ১২৩ রান করে এবং পরে ২৩ রানে জয় পায়।

তবে বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে হার, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া এবং এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।

টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ার পর জ্যোতির সামনে এখন নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও আরও বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য তার। কুড়ি ওভারের নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক চালিয়ে যাবেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184404