মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলো জার্মান পার্লামেন্টারি ডেলিগেশন
[ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬]: জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা খুঁজতে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল শুক্রবার মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
সংসদ সদস্য নিকলাস কাপে এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) গেরল্ড অটেন, ইয়োহান সাটহফ এবং উরসুলা শাওস, সেইসঙ্গে জার্মান বুন্দেসটাগ প্রশাসনের সহায়ক কর্মকর্তা আনিয়া কাটেরিনা এলিজাবেথ বিনার্ট এবং দোভাষী ম্যাক্স ডরফ্লার।
উক্ত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান ফেডারেল রিপাবলিকের মহামান্য রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎস, ইকোনমিক অ্যাটাশে অলগা নভিকোভ ভিনেন, হেড অব পলিটিকাল, প্রেস অ্যান্ড কালচার মনিকা রয়টার, পলিটিকাল অ্যান্ড প্রেস অফিসার মিফতাহুল জান্নাত এবং ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরাব বিন তারেক।
পরিদর্শনকালে মেঘনা গ্রুপের সদস্যরা জার্মান প্রতিনিধি দলকে এমআইইজেডের বিভিন্ন সুবিধা ঘুরিয়ে দেখান, বিশেষত জোনে অবস্থিত দুটি জার্মান মালিকানাধীন কারখানা সিএইচটি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সিগওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড। এমআইইজেডের অধিকাংশ কারখানাতেই জার্মান মেশিনারি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে গভীর শিল্প সম্পর্কের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের সংসদীয় প্রতিনিধি নিকলাস কাপে বলেন, "এমআইইজেডে জার্মান শিল্প ও প্রযুক্তির এই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখে আমি আনন্দিত। এ ধরনের পরিদর্শন জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে পুনর্নিশ্চিত করে, এবং আগামী দিনে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।"
এমজিআই চেয়ারম্যান এবং এমডি মোস্তফা কামাল বলেন, "এমআইইজেডে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগের উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে বরণ করতে পেরে আমি সন্মানিত বোধ করছি। জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। এই সম্পর্ক অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে কয়েক দশকের সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।"
তিনি আরও বলেন, "এমআইইজেড বাংলাদেশের সর্বাধুনিক বেসরকারি অর্থনৈতিক জোন, যেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ, নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আমরা আমাদের জার্মান বিনিয়োগকারীদের এখানে আরও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই। এখানে আমরা সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।
এমআইইজেড ছাড়াও, এমজিআই বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও দুটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করছে। সেগুলি হল- কুমিল্লা ইকোনমিক জোন এবং তিতাস ইকোনমিক জোন। গ্রুপটি তার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিস্তৃত সুবিধা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ আধুনিক, বিনিয়োগকারী-বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, জাপান, ভারত, চীন, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা নানান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এই জোনগুলোতে তাদের কারখানা স্থাপন করেছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184285