ভোলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মমতাজ বেগম রাসু (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দৌলতখান উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নজির বেপারী বাড়ির মো. কাশেম (৫৫) ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৫০)। তারা মামলার যথাক্রমে এক ও দুই নম্বর আসামি।
গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত মমতাজ বেগমের মেয়ে রুবিনা বেগম বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরদিন শনিবার সকালে কাশেম ও রাজিয়াকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভোলার আদালতে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে মমতাজ বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বসতঘরেই তার মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের দেবর বজলু বেপারীর ছেলে মাইনুদ্দিন জমি-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে পাশের বাড়ির কাশেম, তার ছেলে ইকবাল, স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও বজলু বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় মমতাজ বেগম সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়িতে থাকার পর রাতের দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় কাশেম ও তার স্ত্রী রাজিয়াকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, নিহতের বড় মেয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এক ও দুই নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মমতাজ বেগমের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।