বগুড়ার শিবগঞ্জ কামরুজ্জামানের মৃত্যু ও ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও নিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

বগুড়ার শিবগঞ্জ কামরুজ্জামানের মৃত্যু ও ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও নিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের পঞ্চদাস গ্রামের প্রয়াত কামরুজ্জামানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত কামরুজ্জামানের বড় ভাই মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান দীর্ঘ ৭ বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কোনো স্ত্রী-সন্তান ছিল না এবং তিনি ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন।

পরিবারের দাবি, মাদকাসক্তির কারণে কামরুজ্জামান তার অংশের অধিকাংশ সম্পত্তি বিক্রি করে ফেলেন। পরবর্তীতে নেশার টাকা না পেয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে দুর্ব্যবহার ও মারধর করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে কামরুজ্জামানের সঙ্গে তার ভাই বুড়িগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চদাস (জামতলী) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নাম ব্যবহার করে কামরুজ্জামান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। পরিবারের দাবি, ওই ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্য প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কামরুজ্জামানের চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে তার ভাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে তারা জানতে পারেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার উন্নতি হলে ১০ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কামরুজ্জামানকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়াত কামরুজ্জামানের অসুস্থতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে প্রয়াত কামরুজ্জামানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা বা অপপ্রচার চালানো হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184199