বেড়েছে কাগজ কলমসহ খাতার দাম, চাপে পড়েছেন নিম্নবিত্ত অভিভাবকরা
স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের খাতা, কাগজ, কলমের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি আবার কোন পণ্যের দাম একই রেখে কমানো হয়েছে আকার বা পৃষ্ঠার পরিমাণ। প্রয়োজনীয় এই উপকরণগুলো কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা। বগুড়ার বিভিন্ন স্টেশনারি দোকানে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের লেখাপড়ায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোর মধ্যে খাতা এবং কলম অন্যতম। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি সাবজেক্টের কমপক্ষে চারটি খাতা লাগে। এর ফলে প্রতিটি খাতার দাম কয়েক টাকা করে বাড়লেও বছর শেষে একটি পরিবারের মোট শিক্ষা ব্যয়ে তার প্রভাব পড়ে বড় অংকে।
শুধু খাতা নয়, বেড়েছে কলমসহ লেখার কাগজের দামও। দোকানগুলোতে দেখা যায়, সব পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ছে না। কিছু পণ্যের দাম আগের মতো ৫ বা ১০ টাকা রাখা হলেও কমছে আকার ও পরিমাণ। সেক্ষেত্রে ক্রেতা একই পরিমাণ টাকা খরচ করলেও হাতে পাচ্ছেন তুলনামূলক কম এবং ছোট পণ্য।
বগুড়ার তালুকদার ও নিউ মার্কেটের স্টেশনারি দোকানগুলোতে বিক্রি হয় পাইকারি ও খুচরা পণ্য। পাইকারি কিনতে হলে একজন ক্রেতাকে এক ডজন কিনতে হয়। আর যারা খুচরা কিনতে চান তাদের গুনতে হয় পাইকারির চেয়ে বেশি টাকা।
বর্তমানে খুচরা বাজারে ১২৪ পৃষ্ঠার একটি খাতা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। চার বছর আগে একই ধরনের খাতার দাম ছিল প্রায় ৩৫ টাকা। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতার দামেও এসেছে বড় পরিবর্তন। চার বছর আগে যে খাতা ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এক বছর আগে তার দাম দাঁড়িয়েছিল ১০০ টাকায়।
বর্তমানে সেটিই বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। ১৬০ পৃষ্ঠার খাতার দাম এখন ৬০ টাকা এবং ২০৪ পৃষ্ঠার খাতা ৮০ টাকা। এছাড়াও এ-ফোর আকারের ৭০ জিএসএম কাগজের ৫০০ পিসের এক প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। ৮০ জিএসএম কাগজের দাম ৪০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বছরখানেক আগেও এসব কাগজের দাম গড়ে প্রায় ১০০ টাকা কম ছিল। বাজারে ৬৫-৭০ জিএসএম কাগজের ৫০০ পিসের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকায়। গত কয়েকবছরে ৫ টাকা দামের পেন্সিলে দাম হয়েছিল ১০ টাকা। এখন সেই পেন্সিলের দামও বেড়েছে প্রায় পাঁচ টাকা।
বগুড়া নিউ মার্কেটের সবুজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মশিউর রহমান জানান, দীর্ঘদিন হলো তিনি এ ব্যবসার সাথে আছেন। কয়েক বছর আগেও কাগজের দাম অর্ধেক ছিল। করোনার পর থেকেই কাগজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরসাথে কলমের দামেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।
আগে যে কলম পাইকারি বাজারে ৪৫ টাকা ডজন দরে পাওয়া যেত, এখন তার দাম ৫০ টাকা। ৫০ টাকার ডজনের কলম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে এসব কলমের দাম ৫-৬ টাকা। ১০ টাকা দামের কলমের এক ডজনের পাইকারি মূল্যও ১০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। এদিকে বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে ৫ টাকা দামের পেনসিল। ১০ টাকা দামের পেনসিলের পাইকারি মূল্যও বেড়েছে।
প্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলোর দাম বাড়ার ব্যাপারে বগুড়ার জামিল নগরের গৃহবধূ নার্গিস আক্তার জানান, তার তিন সন্তান পড়ালেখা করে বিভিন্ন ক্লাসে। এসব পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপটি অনুভব করছেন তিনি এবং তার মত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
নিত্য প্রয়োজনীয় এসব জিনিসের দাম বাড়ালেও তার পরিবারের আয় বাড়েনি। তাই এখন প্রতিটি পণ্য কেনার আগে সবকিছুর সাথে সমন্বয় এবং অন্যান্য কেনাকাটায় কাটছাট করে তাতেই সংসার চালাতে হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184197