দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : গর্ভনর, বাংলাদেশ ব্যাংক
স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বগুড়া অঞ্চলের অংশীজনদের সঙ্গে গর্ভনরের এক মতবিনিময় সভা আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বন্ধ শিল্প কলকারখানা সচল করাসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স) সালাউদ্দিন তফাদার, কৃষি ঋণ বিভাগের-২ এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (প্রশাসন) সরদার আল ইমরান। কনসেপ্ট পেপার প্রদর্শন করেন ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (পরিদর্শন) সেলিম আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চ সুদ হারের কারণে উদ্যোক্তাদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা হ্রাস করা। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের বিদ্যমান সুদ হার প্রায় ১২-১৪ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চ ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফল হওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আমরা ১০ শতাংশ সুদে উদ্বৃত্ত তহবিল গ্রহণ করে উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকসমূহকে তহবিল সরবরাহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না, এই ৬ শতাংশ সুদের ভর্তুকি সরকার প্রদান করছে। এর উদ্দেশ্য হলো উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর ও টেকসই অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা।
এর পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ আমরা দেখেছি, সেই শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮টি জেলায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
পরবর্তীতে বাকি ৫৬ জেলায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী দিক হলো-চূড়ান্ত উদ্যোক্তা নির্বাচন শুধু ব্যাংকারদের মাধ্যমে করা হবে না। আবেদন গ্রহণের পর সফল উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মধ্য থেকে যোগ্য উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতমুক্ত করার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এই পাইলট কর্মসূচি সফল হলে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সর্বস্তরে ব্যাপক প্রচারণা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক মতবিনিময় সভা আয়োজনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
সভার শেষে সকলে একমত পোষণ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের গঠনমূলক মতামত ও সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করা হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভায় তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের প্রতিনিধিগণ, বগুড়া অঞ্চলের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তাগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184183