জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের মৃত্যু
জনপ্রিয় ব্রাজিলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মারিয়া এদুয়ার্দা আলভেস দো সান্তোস মারা গেছেন। ভক্তদের কাছে ‘ডুডা আলভেস’ নামে পরিচিত এই টিকটকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ২২ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া শোকবার্তায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ার সাঁও জোয়াও পাউলো গির্জায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের সিভিল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলভেসের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে পরিবারের গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও লাইফস্টাইলবিষয়ক কনটেন্ট শেয়ার করে অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ডুডা। টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে তার আট লাখের বেশি অনুসারী ছিল।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর ডুডা তার শেষ ভিডিওটি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্তনের আকার কমানোর বিষয়ে কথা বলেন। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যারা তাকে সমালোচনা করেছিলেন, ভিডিওতে তাদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জবাবও দেন তিনি। ডুডা জানান, মূলত শারীরিক স্বস্তি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তিনি স্তন সার্জারি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এর আগের দিন আরেকটি টিকটক ভিডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারের তিন সপ্তাহ পরও প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর থেকে বারবার বমি ও ব্যথায় কাঁদতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডুডার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তার এক আত্মীয় জিওভানা আলভেস ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমাদের গত ১৯ বছরের জানাশোনাটাই আমার জীবনের সেরা সময়। একসঙ্গে কাটানো হাসি-কান্না, ছোটখাটো ঝগড়া, গোপন কথা, ভ্রমণ আর অজস্র স্বপ্ন—সবকিছু আমার হৃদয়ে চিরকাল জমা থাকবে। আমরা তোমায় কতটা ভালোবাসতাম, আশা করি তুমি সেটা বুঝতে পেরেছ।’
ডুডার বন্ধু ক্লারিসা পাভিয়ে বলেন, ‘তার সঙ্গে জীবনের ভালো-খারাপ সময়গুলো ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।’
ডুডার মৃত্যুতে তার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।