পাবনার বেড়া হাসপাতালে অস্ত্রোপচার, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি বন্ধে চরম দুর্ভোগ
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : যমুনার চরাঞ্চলের চরপেঁচাকোলা থেকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন এক গর্ভবতী নারী (২২)। চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজার) সন্তান প্রসব করানোর। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই মাস ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় তাকে স্বজনেরা একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুধু অস্ত্রোপচার নয়, ফিল্মের অভাবে একমাস ধরে এক্স-রে বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে অচল আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রও। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের সময় তেলের অভাবে চালানো যাচ্ছে না হাসপাতালের জেনারেটর। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের অন্যত্র গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ও পুরোনো ভবন মিলিয়ে স্থাপনার সংকট নেই। আগের চেয়ে চিকিৎসকের সংখ্যাও বেড়েছে। তাই আপাতত চিকিৎসক নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। নতুন ভবনে রয়েছে আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ। মাস দুয়েক আগেও সেখানে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন নিয়মিত সিজারসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করা হতো। হাসপাতালে দু’জন বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ চিকিৎসকও রয়েছেন। অল্প খরচে অস্ত্রোপচারের সুযোগ থাকায় দরিদ্র ও সংকটাপন্ন প্রসূতিদের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ছিল ভরসার জায়গা। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হওয়ার পর থেকে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওথেরাপি) নাজমুল হাসান বলেন, ফিল্মের সরবরাহ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে করা যাচ্ছে না। রোগীরা এক্স-রে করাতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও প্রায় নয় মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না।
আল্ট্রাসনোগ্রাফি ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্ট আশরাফুল হোসেন জানান, একাধিকবার যন্ত্রটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেকনিশিয়ান এনে চেষ্টা করেও সেটি সচল করা যায়নি। ফলে রোগীদের অন্যত্র গিয়ে বেশি টাকা খরচ করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে হচ্ছে।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা, এক্স-রে ফিল্মের সংকট, আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র নষ্ট থাকা এবং জেনারেটর চালানোর জন্য তেল না থাকার বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামী মাসে এক্স-রে ফিল্ম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হলে রোগীরা আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাবেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/184058