রাজশাহী অঞ্চলে হারানো সরকারি অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কার
রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)। ইতোমধ্যে নিখোঁজ ১৬৪টি সরকারি অস্ত্রের মধ্যে ১৪৮টি উদ্ধার করা হলেও এখনও ১৬টি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদের সন্ধান মেলেনি। এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার ঘোষিত পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকেও বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহীতে র্যাব-৫ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক। র্যাব-৫ এর অধিনায়ক জানান, রাজশাহী অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৬৪টি সরকারি অস্ত্রের মধ্যে ১৪৮টি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এখনও উদ্ধার হয়নি ১৬টি অস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে দু’টি চায়না রাইফেল, পাঁচটি চায়না পিস্তল, ছয়টি ১২ বোর শর্টগান ও তিনটি গ্যাসগান। র্যাব-৫-এর তথ্য মতে, তাদের আওতাধীন এলাকাগুলোতে ১৬৪টি অস্ত্র হারিয়েছিল।
এর মধ্যে র্যাব ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ইতোমধ্যে ১৪৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোট হারানো অস্ত্রের ৯০.২৪ শতাংশ। বর্তমানে উদ্ধার বাকি রয়েছে মাত্র ১৬টি অস্ত্র। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, র্যাব-৫ এর আওতাধীন এলাকায় ৫ হাজার ৩৫২টি বিভিন্ন ধরনের গুলি ও টিয়ার সেল খোয়া যায়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৫৪টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও ৪ হাজার ৭৯৮টি উদ্ধার বাকি রয়েছে।
এসব উদ্ধার অভিযানসমূহ মূলত রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা, বোয়ালিয়া মডেল থানা, দামকুড়া থানা, পুঠিয়া থানা, রাজাপাড়া এলাকা এবং জয়পুরহাট সদর থানা এলাকায় পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত পুরস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে র্যাব-৫ অধিনায়ক জানান, একটি রাইফেল, এসএমজি বা স্ন্নাইপার উদ্ধারে তথ্য দিলে দুই লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে শর্টগান, পিস্তল ও গ্যাসগানের তথ্যের জন্য পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার সেলের তথ্যে দেড় হাজার টাকা এবং প্রতি রাউন্ড গোলাবারুদের তথ্যে ৫০ টাকা করে পুরস্কারের বিধান রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় র্যাব-৫ অধিনায়ক আরও জানান, সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183992