বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে উদ্ধার হলো জলাশয়, অন্যায়ভাবে অভিযানের অভিযোগ লিজ গ্রহীতাদের

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে উদ্ধার হলো জলাশয়, অন্যায়ভাবে অভিযানের অভিযোগ লিজ গ্রহীতাদের

শহর প্রতিনিধি : বগুড়া মহানগরের কামারগাড়ী রেলঘুমটির উল্টোপাশের সাতানী হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় দখলকৃত এবং ভরাট করা জলাশয় জনস্বার্থে উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করেছেন সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বুধবার বেলা ১২টার পর থেকে ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম বাবু।

অভিযান পরিচালনাকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি আদেশে জনস্বার্থে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জলাশয়টি সহ ১ একর ২৮ শতক পরিমাণ জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। জনস্বার্থে সিটি কর্পোরেশন এটি পরবর্তীসময়ে উন্মুক্ত করে দিবে। অগ্নিদূর্ঘটনা প্রতিরোধে জলাশয়টির ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে আদেশ হয়েছিল স্থাপনা উচ্ছেদের। পরবর্তী সময়ে মামলা করেন রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ নেওয়া ব্যক্তিবর্গ। মামলাটি প্রত্যাহার হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় এবং অনুসন্ধানে পাওয়া যায় ভূমি শ্রেণী পরিবর্তন করে কৃষি দেখানো হয়। জলাশয়টিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং আগামী ১মাসের মধ্যে এটিকে আগের মতো জলাশয়ে পরিণত করা হবে।

এছাড়াও, জলাশয় সংলগ্ন সাতানী হাউজিংয়ের একটি প্লটে বিনা অনুমতিতে গড়ে তোলা স্থাপনার কিছু অংশও ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ বিষয়ে জলাশয়টি রেলওয়ের কাছ থেকে বরাদ্দ নেওয়া ব্যক্তিবর্গের একজন ছায়ফুল ইসলাম জানান, তিনি এবং অন্যান্য লিজ গ্রহীতারা সরকারকে ৯৪শতাংশ জায়গার বরাদ্দ বাবদ ১কোটি ৯লাখের অধিক নগদ টাকা রাজস্ব প্রদান করেছেন।

বগুড়া জেলা প্রশাসন থেকে যে শ্রেণি পরিবর্তন করে কাগজ দেওয়া হয় তা অনলাইন কপি তাদের সংরক্ষণে আছে এবং কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে তারা তা প্রদর্শন করেন। তাদের ৫০জনের নামে রাজস্ব পরিশোধ ও ভূমি শ্রেণী পরিবর্তন সাপেক্ষে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের বাণিজ্যিক হিসাবে বরাদ্দ দেয়। আমাদের রাজস্ব পরিশোধ করা জায়গায় অন্যায়ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযান পরিচালনার সময় সিটি কর্পোরেশনের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে অংশ নেওয়া বগুড়া দপ্তরে কর্মরত কানুনগো মোঃ রাজিবুজ্জামান জানান, রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের বগুড়া দপ্তরে তিনি ২০২৬সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করেছেন। যতদূর জেনেছেন রেল কর্তৃপক্ষ জলাশয়টিকেই বাণিজ্যিক হিসাবে বরাদ্দ দিয়েছে । তারা রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করছেন।

এসময় অভিযান পরিচালনাকারি দলে আরও অংশ নেন সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার পরিদর্শক আব্দুল হাই, বগুড়া পুলিশ লাইন্সের সহকারী পরিদর্শক আব্দুর রহমান, মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ আজাদসহ বগুড়া সদর থানার ১৫জন পুলিশ সদস্যসহ সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসেবকরা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183949