নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি বিরোধে বাড়িতে হামলা, অস্ত্র তাক করে রাখার ভিডিও ভাইরাল
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সময় আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক যুবককে অস্ত্র হাতে বাড়ির বাসিন্দাদের দিকে তাক করে থাকতে দেখা যায়। তার পাশে থাকা কয়েকজন লাঠি দিয়ে মারধর ও ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালাচ্ছেন।
এ সময় একজনকে বারবার ‘গুলি কর, গুলি কর’ বলতে শোনা যায়। এ সময় ঘরটির ভেতরে আর্তনাদ করছেন কয়েকজন নারী।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চেষ্টায় বিষয়টি একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শরিফ উল্যাহর ঘরে হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাত ও ছুড়ে মারা ইটপাটকেলে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
অমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমন বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী লোকজন এনে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলকে ঘটনাস্থলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি, যার হাতে অস্ত্র ছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183906