সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষক আছেন, ছাত্র নেই

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষক আছেন, ছাত্র নেই

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষক আছেন, ছাত্র নেই। এ স্কুলটি হলো উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত চার বছর কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে না। খাতা-কলমে শিক্ষার্থী ভর্তি থাকলেও বাস্তবে তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় না। শিক্ষার্থী না থাকলেও বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমারসহ দু’জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তাদের একজন জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে দেখেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কোনো কার্যক্রম নেই। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ, পানি ও  ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। দূর থেকে এটাকে ভুতড়ে বাড়ি মনে হয়।

কয়েক বছর শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছেন কেন জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, আমরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসি, এসে নির্দিষ্ট সময়ে চলে যাই। অফিসিয়াল কার্যক্রম থাকলে সেগুলো করি। আমরা অভিভাবকদের সাথে কথা বলছি, মিটিং করছি, ছাত্র আনার চেষ্টা করছি। তবুও ছাত্র আসছে না।

অভিভাবক মনিরা, আনোয়ারা সহ কয়েকজন বলেন, একসময় এই স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। এরপর থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এখন শিক্ষার্থী একেবারেই নেই। দিনে দিনে বিদ্যালয়ের প্রতি সবার অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই সন্তানদের পাশের স্কুল অথবা শহরমুখী করছে।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজ রহমান  বলেন, তারা বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী শূন্যতার বিষয়টি জেনেছেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি একসময় একীভূত হয়ে যাবে। তবে কয়েক বছর বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও তিনজন শিক্ষক কর্মরত থাকা, সরকারি অবকাঠামো সচল থাকা এবং বিদ্যালয়টি নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183860