নওগাঁর রাণীনগরে উদ্ধারকৃত গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ

নওগাঁর রাণীনগরে উদ্ধারকৃত গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতারসহ ৫ গরু উদ্ধার করে। প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও গরুর প্রকৃত মালিক খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। গ্রেফতারকৃত চোরদের সাথে গরুর জব্দ তালিকা আদালতে প্রেরণ করা হলেও মালিকানা নির্ধারণের সুষ্ঠু সমাধা না হওয়ায় বিপাকে পরেছে রাণীনগর থানা পুলিশ।

এই ৬টি গরু খাওয়ার ব্যবস্থা এবং রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় থানার অভ্যন্তরে গরুগুলো অবাধে চলাফেরার কারণে দিনদিন পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠছে। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষগুলো গরুর প্রসাব আর গোবরের দুর্গন্ধে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার গোনা দীঘিরপার পশ্চিমপাড়া গ্রামের খোকন সরদারের গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়। এঘটনায় খোকন সরদার ১২ জুলাই বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ জুলাই নাটোর জেলার সিংড়া এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান (৪২), ফেরদৌস হোসেন (২৬) ও আসলাম দেওয়ানকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার আদমদীঘি থানার সান্তাহার কোমল দোগাছী গ্রামের মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে গোলাম রব্বানীকে (৩৯) বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গোলাম রাব্বানীর দেয়া তথ্য মতে, রাণীনগর থানা, জেলা গয়েন্দা পুলিশ নওগাঁ, নাটোর জেলার সিংড়া থানা পুলিশ এবং র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ওই রাতেই নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর গ্রামের পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজীত চন্দ্র ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং একই উপজেলার বড় বাড়ুইহাটি গ্রামের সুমেন রাজ বংশির ছেলে সুচন্দন রাজ বংশি ওরফে সজল (২৭) এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে এই দুইজনকে গ্রেফতারসহ তাদের বাড়ি থেকে চুরির ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে রাণীনগর থানার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তখন থেকে থানা কর্তৃপক্ষ তাদের নির্মাণকৃত গ্যারেজে রাখার ব্যবস্থা করলে পাশেই পুলিশের আবাসিক কোয়াটার থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন তারা। সেডে গরু রাখার কারণে তাদের মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রোদ বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল জানান, আদালতের মাধ্যমে গরুগুলো নিলামের জন্য ৩০ আগস্ট নির্ধারণ করা হলেও নাটোর জেলার সিংড়া থানার তাজপুর গ্রামের সুমেন হালদারের মেয়ে পপি রাণী হালদার নিলাম বন্ধের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নম্বর-১ নওগাঁতে দরখাস্ত করেন।

এই দরখাস্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালত পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। তাই এখন পর্যন্ত গরুগুলো ব্যক্তিগত উদ্যেগে দেখাশোনা করতে হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183859