খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রেখে সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি

খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রেখে সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতা রক্ষা এবং সার ব্যবসার সাথে জড়িত ডিলারদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষকদের জন্য সারের খুচরা বিক্রয়মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখেই বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সারের (ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি) ডিলার পর্যায়ে কমিশন কেজিপ্রতি ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে সারের বর্তমান মূল্য বহাল থাকলেও ডিলারদের ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম পুননির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে ডিলাররা কেজিপ্রতি ৩ টাকা কমিশন সুবিধা পাবেন।

ইউরিয়া সার  কৃষক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ২৭ টাকাই অপরিবর্তিত থাকছে, তবে ডিলার পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা। ডিএপি সার কৃষক পর্যায়ে ২১ টাকা মূল্য বহাল রেখে ডিলার পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ টাকা। টিএসপি সার কৃষক পর্যায়ে ২৭ টাকা মূল্য অপরিবর্তিত রেখে ডিলার পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা। এমওপি সার কৃষক পর্যায়ে ২০ টাকা মূল্য বহাল রেখে ডিলার পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ টাকা।

কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সার ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে গিয়ে পরিবহন খরচ, গুদামজাতকরণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের চাপে নানা সংকটের মুখে পড়ছিলেন। এতে মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠত। সরকারের এই যুগোপযোগী পদক্ষেপে ডিলারদের ব্যবসায়িক লাভজনকতা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

ফলে তারা আইনসম্মত ও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন এবং অনৈতিক লুটপাট বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে। ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করা হলেও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব কৃষকদের ওপর পড়বে না। অর্থাৎ, কৃষকরা আগের নির্ধারিত মূল্যেই সার ক্রয় করতে পারবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিলার পর্যায়ে সারের এই পুননির্ধারিত বিক্রয়মূল্য এবং বর্ধিত কমিশনের সুবিধা আগামী বছর  ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশের সার ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে এবং কৃষক ও ডিলার উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183846