রোদ বৃষ্টির কোমলতার মাঝে প্রকৃতিতে এলো আশ্বিন
স্টাফ রিপোর্টার : সকাল থেকেই চড় চড় করে রোদ উঠেছে। সাতটাতেই রোদের তাপে পুড়ে যাচ্ছে গা। আবার হঠাৎ করে কোথা থেকে একপুঞ্জি মেঘ এসে পুরোপুরি আড়াল করছে সূর্যকে। ভাদ্রের শেষ দিনে এমন ঝকঝকে দিন পার করে দুয়ারে এলো আশ্বিন।
সকালের খাঁ খাঁ রোদ, দুপুরের খামখেয়ালী একপশলা বড় ফোটার বৃষ্টি, আর বিকেলের আকাশে সাদা মেঘের এলোমেলো ওড়াউড়ি—সব মিলিয়ে আশ্বিনের এই আগমনী বার্তা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে সৃষ্টি করে এক অদ্ভুত শিহরণ। শরৎ ঋতুর এই দ্বিতীয় মাসটি তার নিজস্ব বর্ণিল মেজাজ, অপূর্ব সৌন্দর্য এবং রূপ-বৈচিত্র নিয়ে প্রতি বছরই আমাদের জীবনে ফিরে আসে।
আশ্বিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার আকাশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য। বর্ষার থমথমে কালো মেঘ বিদায় নিয়ে আকাশে স্থান করে নেয় পেঁজা তুলোর মতো শুভ্র ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। রোদের সোনাঝরা আলো যখন সেই সাদা মেঘের আড়াল ভেদ করে নেমে আসে, তখন চারপাশ এক মায়াবী আলোয় ভেসে যায়।
নদীর কোলঘেসে মেঠো পথে বাতাসের তালে দুলতে থাকা কাশফুল, ভোরের বাতাসে ছড়ানো শিউলি ফুলের আকুল গন্ধ আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দেয় আশ্বিনের স্নিগ্ধতা। আশ্বিন মাসের আবহাওয়া অত্যন্ত চঞ্চল ও বৈচিত্রময়। আশ্বিন মানেই বাঙালির হৃদয়ে আনন্দের তোলপাড়। গ্রামীণ জীবনেও এ সময় আসে ভিন্ন মাত্রা। মাঠে মাঠে তখন দোল খায় সবুজ আমন ধানের ক্ষেত। খাল-বিলে পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় মৌসুমী মাছ শিকারীরা মাছ ধরতে খাল-বিলে নামে।
প্রকৃতির এই খামখেয়ালী আচরণে দৈনন্দিন জীবনে একদিকে যেমন স্বস্তি মেলে, অন্যদিকে তৈরি হয় কিছুটা অসুবিধাও। অতিরিক্ত গরমের পর হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি পরিবেশকে যেমন একমুহূর্তে ঠান্ডা করে দেয়, তেমনি আচমকা বৃষ্টির কারণে পথচারী ও পথচলতি মানুষদের পোহাতে হয় ভোগান্তি।
তাছাড়া এই ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির মতো ঋতুভিত্তিক অসুস্থতার প্রকোপ বাড়ে। সব সীমাবদ্ধতা আর অস্বস্তিকে ছাপিয়ে আশ্বিনের আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার স্নিগ্ধতায়। আশ্বিন শুধু একটি মাস নয়, এটি হলো প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন, যেখানে মিশে থাকে রোদের উত্তাপ, বৃষ্টির শীতলতা আর উৎসবের অবিরাম আনন্দ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183731