বুদ্ধিমান ব্যাঙ

বুদ্ধিমান ব্যাঙ

ছোট্ট একটি ব্যাঙ বালুময় পথ ধরে লাফাতে লাফাতে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পেছনে পাতার মর্মর শব্দ শুনে সে ফিরে তাকাল। দেখতে পেল, একটি বড় সাপ তাকে লক্ষ্য করে দ্রুত এগিয়ে আসছে। ব্যাঙটি বুঝতে পারল, বিপদ আসন্ন। মুহূর্তের মধ্যে সে প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করল। ছোট্ট ব্যাঙটি যত দ্রুত সামনে এগোচ্ছে, সাপটিও তত দ্রুত তার পিছু নিচ্ছে। কখনো ব্যাঙটি ডানদিকে সরে যাচ্ছে, কখনো বাঁদিকে। কিন্তু সাপটি কোনোভাবেই তার পিছু ছাড়ছে না। একসময় ব্যাঙটি বালুময় একটি খোলা জায়গায় এসে পৌঁছাল।

পেছনে তাকিয়ে দেখল, সাপটি অনেক কাছে চলে এসেছে। তার বুক ভয়ে ধড়ফড় করতে লাগল। হঠাৎ তার মাথায় একটি বুদ্ধি খেলে গেল। ব্যাঙটি দৌড় থামিয়ে বালুর ওপর একেবারে নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল। তার শরীরের রং বালুর সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেল যে, দূর থেকে তাকে একটি ছোট্ট পাথরের মতো মনে হচ্ছিল। সাপটি দ্রুত সেই জায়গায় এসে পৌঁছাল। তার ধারণা হলো, ব্যাঙটি নিশ্চয়ই সামনে চলে গেছে। তাই সে থামল না, ব্যাঙটির পাশ দিয়েই এগিয়ে গেল। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ সাপটি থেমে গেল। তার মনে হলো, ব্যাঙটিকে তো আর দেখা যাচ্ছে না! সে পেছনে ফিরে তাকাল। এদিক-সেদিক খুঁজল।

বালুর ওপর ভালো করে তাকাল। কিন্তু ছোট্ট ব্যাঙটির কোনো চিহ্ন পেল না। সাপটি আবার সেই পথ ধরে ফিরে এল। বালুর মধ্যে পাথরের মতো দেখতে একটি ছোট্ট জিনিসের পাশ দিয়ে গেলেও তার সন্দেহ হলো না। সে বুঝতেই পারল না, যাকে সে পাথর ভেবে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে, সেটিই সেই ছোট্ট ব্যাঙ! অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ব্যাঙটিকে আর না পেয়ে সাপটি হতাশ হয়ে অন্যদিকে চলে গেল। সাপটি চোখের আড়াল হওয়ার পর ছোট্ট ব্যাঙটি ধীরে ধীরে নড়ল। তারপর চারপাশে ভালো করে তাকিয়ে এক লাফে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে গেল। কিছু দূরেই ছিল তার ছোট্ট বাসা। সেখানে তার পাঁচটি ছোট্ট ছানা অপেক্ষা করছিল। মাকে দেখতে না পেয়ে তারা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাদের একজন বলল, মা, তুমি এত দেরি করলে কেন?

আমরা ভেবেছিলাম, তুমি আর ফিরবে না! আরেকটি ছানা মায়ের কাছে এসে বলল, মা, তোমার গায়ে এত বালু কেন? ছোট্ট ব্যাঙটি তখন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর তার পাঁচ ছানাকে কাছে ডেকে বলল, আজ আমি খুব বড় বিপদ থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। পাঁচটি ছানা একসঙ্গে বিস্ময়ে বলল, কী হয়েছে, মা? ব্যাঙটি তাদের সাপের সঙ্গে দেখা হওয়ার ঘটনাটি বলল। কীভাবে সাপটি তাকে তাড়া করেছিল, কীভাবে সে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েছিল এবং শেষে বালুর সঙ্গে মিশে পাথরের মতো নিশ্চুপ হয়ে সাপটিকে ফাঁকি দিয়েছিল সব খুলে বলল।

পাঁচটি ছানা মায়ের কথা মন দিয়ে শুনল। তারপর ব্যাঙটি বলল, মনে রাখবে, বিপদ দেখলে সব সময় শুধু ভয়ে ছুটতে নেই। আগে বুঝতে হবে, কোথায় লুকালে নিরাপদ থাকা যায় এবং কীভাবে নিজের চারপাশকে কাজে লাগানো যায়। ছানারা মায়ের কথাগুলো মন দিয়ে মনে রাখল। পরদিন ছোট্ট ব্যাঙটি জলাভূমির অন্য ব্যাঙদেরও ডেকে বলল, সাবধান! আশপাশে সাপ ঘোরাফেরা করছে। কেউ বিপদে পড়লে ঘাবড়ে যাবে না। নিজের চারপাশের পরিবেশ লক্ষ্য করবে। কখনো গাছপালা, কখনো গর্ত, কখনো ঘাস কিংবা বালু পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হবে। অন্য ব্যাঙরা বিস্ময়ে তার কথা শুনল। তারা বুঝতে পারল, ছোট্ট হলেও এই ব্যাঙটির সাহস ও বুদ্ধি অসাধারণ।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183551